জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয় পেশাদাররা উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ কন্ট্রিবিউটার। তাঁদের কাজ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, “আমরা মনে করি, এই ধরনের বর্ণনা অযৌক্তিক এবং আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয় পেশাদাররা যে সে দেশের অর্থনীতি ও উদ্ভাবনী ব্যবস্থায় উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ অবদানকারী, সেই বিষয়টিকে উপেক্ষা করে।”
মন্ত্রক আরও বলেছে, “প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকার ইতিহাসও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আসা অভিবাসীদের দ্বারা গড়ে উঠেছে। তাঁদের শ্রম, উদ্যোগ ও উদ্ভাবন আমেরিকার বৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। যন্ত্রণাদায়ক ঐতিহাসিক ও ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থ বহন করে, এমন পরিভাষার ব্যবহার গভীরভাবে অপমানজনক।”
এই প্রতিক্রিয়া এমন এক সময়ে এল, যখন ভ্যান্স এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করা এবং পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম (PERM)-এর মাধ্যমে তাঁদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য স্পনসর করার ক্ষেত্রে আমেরিকান সংস্থাগুলির সমালোচনা করেছেন।
বিদেশি কর্মীদের নিয়ে কী বলেছিলেন জেডি ভ্যান্স?
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেডি ভ্যান্স মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে আমেরিকার অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, সংস্থাটি আমেরিকান কর্মীদের ছাঁটাই করার পাশাপাশি বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করছে। তিনি দাবি করেন, আগের বছর মাইক্রোসফট ৬,০০০ আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল। অথচ সেই সময় সংস্থাটি ৬,৩০০টি এইচ-১বি ভিসা এবং প্রায় ৩,০০০টি গ্রিন কার্ডের সুবিধা পেয়েছিল।
ভ্যান্স বলেন, “অন্য কথায়, হিসেব করলে দেখা যাবে, মাইক্রোসফট যে প্রত্যেক কর্মীকে ছাঁটাই করেছে, তাঁর পরিবর্তে সংস্থাটি দেড় জন করে বিদেশি ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ নিয়োগ করেছে।”
তিনি আরও যুক্তি দেন, এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত কর্মীরা ঝুঁকির মধ্যে থাকেন, কারণ তাঁদের অভিবাসন সংক্রান্ত মর্যাদা তাঁদের চাকরির সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাঁরা চাকরি হারালে তাঁদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হতে পারে। তিনি বলেন, “আমি যখন চুক্তিবদ্ধ দাস বলছি, তখন এর অর্থ হল—কেউ যখন এইচ-১বি ভিসায় আমেরিকায় আসেন, তখন তিনি সম্পূর্ণভাবে ওই সংস্থার অধীনস্থ হয়ে পড়েন।”
ভ্যান্স আরও দাবি করেন, একই ধরনের পদে কর্মরত আমেরিকান নাগরিকদের তুলনায় এইচ-১বি ভিসায় কাজ করা কর্মীরা প্রায় ২০,০০০ ডলার কম বেতন পান। অন্যদিকে, বিদেশি আউটসোর্সিং সংস্থার মাধ্যমে নিয়ে আসা কর্মীরা প্রায় ৪৮,০০০ ডলার কম বেতন পান। বিদেশি শ্রমিকদের ব্যবহার করে সংস্থাগুলি আমেরিকান কর্মীদের বেতন কমিয়ে রাখছে—নিজের এই যুক্তির সমর্থনে ভ্যান্স এই পরিসংখ্যানগুলি তুলে ধরেন।
আমেরিকান কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার মোকাবিলা করাই তাদের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য বলে দাবি করে আসছে মার্কিন প্রশাসন।