কলকাতা : “এই সেসনেই পিএ কমিটি অনুমোদন দিলে শেষ দিনে বিল আসছে, সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব।” বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সময় দুর্নীতি ইস্যুতে সুর চড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কোনও চোরকে ছাড়া হবে না।” এরপর বিরোধী শিবিরের উদ্দেশে বলেন, “আজ সকাল থেকে টিভিতে দেখাচ্ছে, বিধাননগরে আপনাদের বড় নেতা, প্রাক্তন চেয়ারম্যান…প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর মতো ওঁরও বান্ধবীর বাড়ি থেকে কেজি কেজি সোনা পাওয়া যাচ্ছে।”
এরপরই বিরোধী দলনেতাকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় বিরোধী দলনেতা, আগে ঠিক করুন কার পক্ষে বলবেন । আর কার বিরুদ্ধে বলবেন। আপনার দল আপনাকে সাপোর্ট করছে ? আপনি আর সন্দীপন সাহা সই চুরি নিয়ে অভিযোগ করলেন। সাসপেন্ড হল। আর মাঠ থেকে পালিয়ে গেল, নেপালে বউ-বাচ্চা নিয়ে ফলতার তথাকথিত পুষ্পা। তাকে আপনার দল সাসপেন্ড করল না। আপনার মিটিংয়ে গেছিলেন বন্দরের বিধায়ক…তিনি সাসপেন্ড হয়ে গেলেন। মিডিয়াতে দেখাচ্ছে। সত্যি-মিথ্যা আমি জানি না। কিন্তু তথাকথিত পুষ্পা তিনি বহাল তবিয়তে থাকেন। কার জন্য এখানে লড়াই করছেন ? আপনি তালিকাটা খুঁতিয়ে খুঁতিয়ে দেখে তৈরি করুন। আপনি সমীর জানার জন্যও বলুন। আপনি মহম্মদ সোহরাবের জন্যও বলুন। আপনি কেন এই চোর-ডাকাতদের জন্য বলছেন ?” তাঁর সংযোজন, “আপনাকে আমরা বলে দিয়ে গেলাম, আমি পরিষ্কারভাবে বলে দিয়ে গেলাম, এই রাজ্যে আমরা শপথ নিয়েছি…গুন্ডা-মাফিয়া-তোলাবাজ-লাল চুল কানে দুল একটাও জেলের বাইরে থাকবে না। শুধু তাই নয়, এই সেসনে বিল আসছে, আমার দফতর স্বরাষ্ট্র দফতর। অনেকেই ভাবছেন দু’মাস থাকলাম, তারপরে আইনি লড়াই করে জামিনে বেরিয়ে এলাম। এই সেসনেই পিএ কমিটি অনুমোদন দিলে শেষ দিনে বিল আসছে, সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় টেনে আনেন পূর্বতন সরকারের আমলে বীরভূমের পাথর খাদান থেকে রাজস্ব আদায়ের বিষয়। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বীরভূমে পাথরে কী করেছে জানেন ? আপনাদের হাতে ছিল পার্টি। সব ল্যাম্পপোস্ট ছিলেন। আসল তো যুবরাজ। আসল তো ভানুয়াতু। প্রতিবাদ করেননি। আমার বুকে পাটা ছিল, আমি প্রতিবাদ করেছি। সব মেনে নিয়েছিলেন। একবছরে বীরভূমের পাথর থেকে রেভিনিউ দিয়েছেন ৬০ কোটি টাকা। আর আমরা ৯ মে শপথ নেওয়ার পরে ১ মাসে রেভিনিউ দিয়েছি ৮৩ কোটি টাকা। এটা ১০০ কোটি হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অ্যাকাউন্টে ১০০ কোটি, বাকি ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই।”
Aroop Biswas: “আমি তৃণমূল, তৃণমূল, তৃণমূল”, আর যা বললেন অরূপ বিশ্বাস…