Last Updated:
Sukhendu Sekhar Roy: সোমবার সন্ধ্যায় অমিত শাহের সঙ্গে সুখেন্দুশেখর রায়ের সাক্ষাৎ জল্পনা বাড়িয়েছে। অমিত শাহের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ ‘সৌজন্য’ সাক্ষাৎ বলেই জানিয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়। তবে জল্পনা বাড়ছে, তবে কি এবার রাজ্যসভায় বিজেপির টিকিটে লড়তে দেখা যাবে প্রবীণ প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদকে।
কলকাতা: রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে কয়েক শো মিটার দূরত্বেই সোম সন্ধ্যায় হাজির হয়েছিলেন অমিত শাহ। সৌজন্য ভবনে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ সারলেন সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়।
বাংলায় মালদহ জেলায় সভা করতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেছিলেন শিবেন্দু শেখর রায়ের নাম। পশ্চিমবাংলার ভারত অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে রাজনীতিবিদ সুখেন্দুশেখর রায়ের বাবার ভূমিকা নিয়ে জোর চর্চা হয় সেই সময়। যদিও যে রাজনৈতিক দলের সাংসদ হিসাবে দায়িত্ব সামলেছেন সুখেন্দুশেখর রায়, সেই দলের নেতা, নেত্রী এমনকি মুখ্যমন্ত্রী অবধি কোনও দিন শিবেন্দু বাবুর অবদান নিয়ে আলোচনা করেননি, এমন অনুযোগ রয়েছে।
গতকাল, সোম সন্ধ্যায় অমিত শাহের মুখোমুখি হলেন সেই শিবেন্দু পুত্র। কিছুদিন আগেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। প্রসঙ্গত সোমবার সকালেই তার ছেড়ে যাওয়া আসন-সহ বাকি দুই আসনে ভোট ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।
সোম সন্ধ্যায় অমিত শাহের সঙ্গে সুখেন্দুশেখর রায়ের সাক্ষাৎ জল্পনা বাড়িয়েছে। অমিত শাহের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অবশ্য নিছকই সৌজন্য বলে জানিয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মতিথি পালনে কলকাতায় আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। এদিন সদ্য প্রাক্তন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের তরফে অমিত শাহের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ভারতমাতার ছবি। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়ে সেই ছবি আঁকা হয়েছিল। এছাড়া সুখেন্দুশেখর রায়ের বাবার কাছে থাকা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটা বিরল ছবি উপহার দিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ।
এছাড়া স্বর্গীয় শিবেন্দু শেখর রায়, যিনি বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন, তাঁর একটি নথিও তুলে দেওয়া হয়েছে অমিত শাহের হাতে। এছাড়া শিবেন্দু শেখর রায়ের একটি ছবিও তাঁর পুত্র তুলে দিয়েছেন অমিত শাহের হাতে। তবে সাক্ষাৎকার পর্বে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শিবেন্দু শেখর রায়কে লেখা একটি চিঠি অমিত শাহের হাতে তুলে দিয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়। সেই চিঠিতে কী লেখা আছে?
১৯৪৩ সালের ৫ অক্টোবর কলকাতার ৭৭, আশুতোষ মুখার্জি রোড থেকে লেখা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এই ঐতিহাসিক চিঠিটি সেই সময়কার দুর্ভিক্ষ ও ত্রাণ কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে। শিবেন্দু বাবু (শিবেন্দু শেখর রায়)-কে লেখা এই চিঠিতে তিনি প্রথমেই উত্তর দিতে দেরি হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ত্রাণের কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকার কারণেই সময়মতো জবাব দিতে পারেননি তিনি। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইন্সপেক্টর অফ কলেজেস তাঁর রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং কিছু শর্তসাপেক্ষে মালদায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি মহারাজ কুমারের কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি লেখার অনুরোধও জানান।
চিঠির শেষ অংশে ড. মুখোপাধ্যায় জানান, ত্রাণ কার্যক্রমের বিপুল চাপের কারণে তাঁকে তাঁর নির্ধারিত উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত রাখতে হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে লেখেন যে, ত্রাণ সংক্রান্ত কাজের চাপ কমলে তবেই সেই সফর সম্ভব হবে।
এই চিঠিটি শুধু একটি ব্যক্তিগত যোগাযোগ নয়, বরং ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মানবিক উদ্যোগ, প্রশাসনিক দায়িত্ববোধ এবং শিক্ষা বিস্তারের প্রতি তাঁর আগ্রহের একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক দলিল। এটি সেই সময়ে জনসেবার প্রতি তাঁর অঙ্গীকারেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। সূত্রের খবর বাংলায় হিংসা মুক্ত নির্বাচন করার জন্যে অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায়।
