নয়াদিল্লি: অবাধ্য হতে শুরু করেছে সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট Google-এর AI মডেল Gemini. Gemini আর পরীক্ষানিরীক্ষার মধ্যে বাঁধা পড়ে নেই, বরং নজর এড়িয়ে গতিবিধি বাড়াচ্ছে এদিক ওদিক। ইতিমধ্যেই তিন-তিনটি সংস্থার ডিজিটাল ডেটা হস্তগত করার চেষ্টা করেছে। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে। কারণ একের পর সংস্থার AI মডেলকে ঘিরে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, সেই তালিকায় নাম জুড়ে গেল Google-এরও। (Google Gemini Went Rogue)
আমেরিকার Wall Street Journal প্রথম বিষয়টিরর পর্দাফাঁস করে। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে যেতে খবরের সত্যতা স্বীকার করেছে Google-ও। জানিয়েছে, মে মাসে ওই ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তার বেড়াজাল এড়িয়ে তিনটি সংস্থার কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করে নেয় Gemini. আন্দাজে পাসওয়র্ড বসিয়ে তিনটি সংস্থার কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করে নেয়। দু’বার পাবলিক পাসওয়র্ড রিপজট্রি ব্যবহার করে Gemini, সর্বজনীন ভাবে তালিকাভুক্ত পাসওয়র্ডের সংগ্রহশালা। সাধারণ বা ফাঁস হয়ে যাওয়া পাসওয়র্ডের ভাণ্ডারকে পাবলিক পাসওয়র্ড রিপজট্রি বলা হয়, যা হ্যাকিং রুখতে, নিরাপত্তা আঁটসাট করতে এবং গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়। (Google Gemini Hacked Companies)
এই প্রথম Google-এর AI সিস্টেমের অবাধ্যতার খবর সামনে এল। কারও নির্দেশে নয়, বরং অগোচরে অন্য সংস্থার সিস্টেম হ্যাক করে নেয় Gemini. শুক্রবার Google-এর তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, কোনও রকম অনুমতি ছাড়াই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। কিন্তু এত বড় কাণ্ড ঘটল, আর কেউ জানতে পারল না? না কি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চাইছিল Google, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। Wall Street Journal বিষয়টির পর্দাফাঁস না করলে, কেউ কিছু জানতে পারত কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
অন্য দিকে, Google-এর দাবি, মে মাসে ইজ়রায়েলি স্টার্টআপ সংস্থা Irregular ‘capture-the-flag’ সিকিওরিটি টেস্ট চালাচ্ছিল। সেই সময়ই অন্য তিনটি সংস্থার কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করে নেয় Gemini. অত কিছুর নাগালই পাওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু একটি ‘bug’-এর দরুণ সব কিছু নাগালে চলে আসে Gemini-এর। Google-এ সিকিওরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেদার অ্যাডকিন্সের বক্তব্য, “মূল্যায়ন চলাকালীন অনলাইন মজুত থাকা সর্বজনীন তথ্য় খুঁজে পায় Gemini. কিছু ওয়েবসাইটে ঢোকার ক্রেডেনশিয়াল পেয়ে যায়, যা পরীক্ষার অংশ বলেই মনে হয়েছিল।” তবে কোনও ক্ষতি হওয়ার আগেই বিষয়টি আটকানো সম্ভব হয় বলে দাবি করেছে Google.
জানা গিয়েছে, সাইবার নিরাপত্তায় Gemini-এর দক্ষতা পরীক্ষা করে দেখা হচ্চিল। সেই সময় একটি ভুয়ো সংস্থার সফ্টওয়্যার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নেয়। ওই ভুয়ো সংস্থার যে নাম, আসল সংস্থারও তা-ই নাম ছিল। ইন্টারনেটের অ্য়াকসেস পেয়ে সঠিক ভাবেই আসল সংস্থাটির পাসওয়র্ড আন্দাজ করে নেয় Gemini. Irregular জানিয়েছে, আসল সংস্থার সিস্টেম হ্যাক হয়েছে বলে যখন বুঝতে পারে Google, তারা বিষয়টি থামিয়ে দেয়।
এর পর, আরও দু’টি পরীক্ষা চলাকালীন, অনলাইন ভাণ্ডার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দুই সংস্থার সিস্টেম হ্যাক করে নেয় Gemini. আসল সংস্থার সিস্টেম হ্যাক করা হয়েছে বুঝতে পেরে, তাও থামিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে Google-কে। কারণ AI যে অবাধ্য আচরণ করছে, নিজে থেকেই তা প্রকাশ করেছিল Open AI এবং Anthropic. Google নিজে থেকে বিষয়টি খোলসা করেনি। সংবাদমাধ্যমে খবর হতে সাফাই দিয়েছে তারা। তাদের দাবি, ওই তিন সংস্থাকে জানানো হয় বিষয়টি। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আমেরিকার সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। অবিলম্বে AI সংস্থাগুলিকে থামানোর দাবি তুলেছেন তিনি। প্রযুক্তি সংস্থাগুলি AI-কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন।
AI-এর বাড়বাড়ন্তে ভয়ঙ্কর বিপদ নেমে আসতে পারে বলে বেশ কিছু দিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন প্রযুক্তি জগতের রথী-মহারথীরা। একাধিক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, নির্দেশ মানা তো দূর, বরং AI মডেলগুলি গোপনে নিজেদের মধ্যে আঁতাত তৈরি করছে। একযোগে নিশানা করছে বিভিন্ন সিস্টেমকে। এমন চললে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, মানবজাতির অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়তে পারে বলেও দাবি উঠছে। এমনকি ধনকুবের ইলন মাস্ক পর্যন্ত AI-এর গতি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে সওয়াল করেছেন। আর এবার Google-এর মতো সংস্থাতেও AI হাতের বাইরে চলে যাওয়ার খবর সামনে এল। বিপদ আঁচ করে ইতিমধ্যেই দুই সপ্তাহের জন্য OpenAI কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। Anthropic-ও সামগ্রিক ভাবে কাজের গতি শ্লথ করে দিয়েছে।
TMC Logo Contro : কালীঘাট-তৃণমূল ভোটে লড়বে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে | ABP Ananda Live