কলকাতা: পূর্বাভাস ছিল। সেই মত ইউপিআইয়ের নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনে বসানো হচ্ছে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি বিবৃতি দিয়ে এমনটাই জানাল ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)। সরকারের এই ঘোষণার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন ব্যবসায়িরা। চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ মানুষও। কারণ, তাঁদের দাবি, এমডিআর যুক্ত হওয়ার ফলে বাড়তি টাকা ব্যবসায়িরা সাধারণ মানুষের থেকেই নেবে বিভিন্ন কৌশলকে কাজে লাগিয়ে। ১৫ অক্টোবর থেকে চালু হচ্ছে এই নিময়। আর এর মাঝে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক কুমার লাহিড়ীর একটি মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়। 

অশোক কুমার লাহিড়ী বড় আকারের ইউপিআই লেনদেনের উপর ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ (এমডিআর) চালুর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি এই বিষয়ে যুক্তি দিয়ে জানান যে, ব্যবসায়িদের নিজেদের ব্যবসা নিজেদের চালানো উচিত। সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিটি লেনদেনে ভর্তুকি দিতে পারে না। এবং সরকারের খরচের প্রত্যাশা না করে, এই পরিষেবার ব্যবহারকারীদেরই তাদের অংশের খরচ বহন করা উচিত।

প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিক চাণক্যের উদ্ধৃতি উল্লেখ করে অশোক কুমার লাহিড়ী বলেন, “রাজার উচিত নাগরিকদের কাছ থেকে ঠিক সেভাবেই কর আদায় করা, যেভাবে একটি মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। মৌমাছি খুব আলতোভাবে, ধাপে ধাপে এবং ফুলের পাপড়ি নষ্ট না করে বা না থেঁতলে মধু সংগ্রহ করে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, তার এই মতামত নীতি আয়োগের সঙ্গে কোনওভাবে যুক্ত নয়, এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত। তিনি আরও বলেন, ”আমি মনে করি, যেকোনো ব্যবসা বা লেনদেনের জন্য তার চার্জ ব্যবহারকারীকেই পরিশোধ করতে হবে।”

আরও পড়ুন – লাড্ডুতে মেশানো হত গরুর চর্বি-মাছের তেল ! তিরুপতি কাণ্ডে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত, কোন কোন সংস্থা জড়িত ?

ইউপিআই লেনদেনে সম্ভাব্য চার্জকে অন্যান্য ব্যাঙ্কিং পরিষেবার খরচের সঙ্গে তুলনা করেছেন অশোক কুমার লাহিড়ী এবং জানান বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে এই খরচ তুলনামূলকভাবে কম হবে। তিনি একটি গাণিতিক উদাহরণ দিয়ে বলেন, “হিসাবগুলো দেখুন। আপনি যদি ১০০ টাকার একটি লেনদেন করেন তার জন্য আপনি ৪০ পয়সা দেবেন। তাও আবার বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে। এতে কি আপনার জীবন চলে যাবে? না। তবে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে এই ধরনের খরচ নিজের আয় থেকেই বহন করার অভ্যাস তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যাঙ্কিং পরিষেবার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি ‘চেক বই’-এর কথা উল্লেখ করেন, যার জন্য গ্রাহকদের একটি সামান্য ফি দিতে হয়। লাহিড়ীর কথায়, ”যখন আপনি ব্যাংক থেকে চেক বই নেন, তখন এর জন্য একটি সামান্য পরিমাণ অর্থ প্রদান করেন। এতে কি আপনার কোনো অসুবিধা হয়? এটা ব্যবসারই একটি অংশ। 

By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WordPress Catalog MyThemeShop My WP Backup Pro MyThemeShop My WP Mega Menu MyThemeShop MyBlog WordPress Theme MyThemeShop Newsmag WordPress Theme MyThemeShop NewsOnline WordPress Theme MyThemeShop Newspaper WordPress Theme MyThemeShop NewsTimes MyThemeShop NewsToday WordPress Theme MyThemeShop Nominal WordPress Theme MyThemeShop Pinstagram WordPress Theme