নয়াদিল্লি : NEET-এর প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নামতে হয়েছে ছাত্র-যুবদের। দেশজুড়ে আন্দোলনের চাপে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই ঘটনার রেশ এখনও রয়েছে। এনিয়ে উত্তাল দেশের সংসদও। এই আবহে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন DMK সাংসদ দয়ানিধি মারান। NEET পরীক্ষার কারণে একশোর বেশি ছাত্র নিজেদের প্রাণ শেষ করে দিয়েছেন, তাই এখনই এই পরীক্ষা বাতিল করা হোক বলে দাবি জানান তিনি। এক্ষেত্রে তামিলনাড়ুর মজবুত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও শিক্ষা পরিকাঠামোর কথা তুলে ধরেন সাংসদ।
তিনি বলেন, “নিট অপ্রয়োজনীয় কারণ তামিলনাড়ু সেইসব রাজ্যের মধ্যে অন্যতম যেখানে আমাদের বেশি সংখ্যক মেডিক্যাল কলেজ আছে। কৃষক বা দিনমজুরদের সন্তানদের চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে। এই চিকিৎসকরা সেরা। ওঁরা তামিলনাড়ুর স্কুলে পড়েন । এমনকী এপিজে আব্দুল কালামও তামিল মিডিয়ামে পড়াশোনা করেছিলেন। আমরা প্রমাণ করতে পারি যে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সেরা।”
মেডিক্যাল নিয়ে পড়তে চাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর মানসিক চাপের জন্য প্রশাসনকে সরাসরি দায়ী করেন তিনি। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নিট পরীক্ষার প্রকৃত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সাংসদ বলেন, “আপনার হাতে রক্ত লেগে আছে। নিট প্রয়োগ জারি রাখা নিয়ে আপনার ঔদ্ধত্যের জন্য ১০৭ জন ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তাতে কী পেলেন ? তাতে কি ডাক্তারদের দক্ষতা বাড়ল ? হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ল ? কিছু হয়নি, কিন্তু মৃতের সংখ্যা বেড়েছে।” এরপরই বিজেপির উদ্দেশে তাদের অবস্থান খতিয়ে দেখার আর্জি জানান মারান এবং ছাত্রদের স্বার্থে এই মেডিক্যাল পরীক্ষা বাতিলের আবেদন জানান। তিনি বলেন, “আমি বিজেপিকে অনুরোধ করছি নিট বাতিল করুন।”
পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্কের সময় যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের পরিবারের জন্য ককরোচ জনতা পার্টির তরফে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে যে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেবে।
ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তাঁদের সংগঠন শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে প্রচার চালিয়ে যাবে এবং তাঁদের আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাবে। পিটিআই-এর সঙ্গে কথা বলার সময় সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেছিলেন, শিক্ষা ও শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি জানানোর পাশাপাশি তরুণদের প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সংগঠন সরব থাকবে।