Last Updated:
Kullu JE Murder: হিমাচল প্রদেশের কুল্লুতে জলশক্তি বিভাগের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার লাভ সিং গুলেরিয়ার ব্লাইন্ড মার্ডারের রহস্যভেদ করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গিয়েছে, এক মহিলা চিকিৎসকের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের সন্দেহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এই ঘটনায় ওই মহিলা চিকিৎসক, তাঁর স্বামী, শ্বশুর এবং দেওরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাত্র চার দিনের তদন্তে এই খুনের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
শিমলা: হিমাচল প্রদেশের কুল্লু সাব-ডিভিশনে জলশক্তি বিভাগের এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (JE)-এর ব্লাইন্ড মার্ডারের রহস্যভেদ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতারের কথা ঘোষণা করেনি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে পারে পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের আদালতেও পেশ করা হবে।
তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার কুল্লুতে জলশক্তি বিভাগের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার লাভ সিং গুলেরিয়ার বিলাসপুরের এইমসে (AIIMS Bilaspur) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, এক মহিলা চিকিৎসকের সঙ্গে কথিত অবৈধ সম্পর্কের সন্দেহ থেকেই কুল্লুর গান্ধিনগরে অবস্থিত অফিসের JE লাভ সিং গুলেরিয়াকে খুন করা হয়। এই ‘ব্লাইন্ড মার্ডার’ মামলায় ওই মহিলা চিকিৎসক, তাঁর চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর এবং দেওরের জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশ চারজনকেই হেফাজতে নিয়েছে।
জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় কুল্লুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সঞ্জীব চৌহানের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই মহিলা চিকিৎসক কুল্লু আঞ্চলিক হাসপাতালে কর্মরত, আর তাঁর স্বামী লাহৌল-স্পিতিতে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনের মেডিক্যাল পরীক্ষাও করানো হয়েছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, কুল্লু সাব-ডিভিশনের জলশক্তি বিভাগে কর্মরত ৫২ বছর বয়সি জেই লাভ সিং গুলেরিয়ার হত্যাকাণ্ডে মহিলা চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ ছিল যে, তাঁর সঙ্গে JE-এর একটা অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। সেই সন্দেহ থেকেই গত ২৪ জুলাই পানীয় জলের পাইপলাইন পরীক্ষা করার অজুহাতে মহিলা চিকিৎসক তাঁকে গান্ধিনগরের নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান। অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর এবং দেওর মিলে তাঁকে মারধর করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে অফিসের কাছেই ফেলে রেখে চলে যান।
চার দিনের তদন্ত, কল ডিটেলস এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে। জানা গিয়েছে, বাড়ির গৃহপরিচারিকাও জিজ্ঞাসাবাদের সময় ঘটনাটি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাঁর আদালতে জবানবন্দিও নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, অভিযুক্ত শ্বশুর ঘরের ভিতরে JE-কে তাঁর পুত্রবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন এবং জানতে চেয়েছিলেন, তিনি কেন বারবার তাঁদের বাড়িতে আসতেন।
আধমরা অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিলেন JE:
উল্লেখ্য, ২৪ জুলাই রাতে পরিবারের সদস্যরা লাভ সিং-কে খুঁজতে বেরিয়ে তাঁর অফিসের কাছে প্রথমে তাঁর স্কুটি খুঁজে পান। পরে রাস্তার ধারে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁকে প্রথমে কুল্লু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে বিলাসপুরের এইমসে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ব্লাইন্ড মার্ডারের রহস্য উদঘাটনের জন্য কুল্লুর পুলিশ সুপার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছিলেন। কুল্লুর খৌলা এলাকার বাসিন্দা কান্তা দেবী তাঁর স্বামীর হত্যার অভিযোগ দায়ের করে জানিয়েছিলেন, ২৪ জুলাই গভীর রাত পর্যন্ত তাঁর স্বামী বাড়ি ফেরেননি।
Kolkata,West Bengal
Jul 30, 2026 12:11 PM IST
