Last Updated:
Prashant Kishor: তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক পরিকাঠামোর এই ‘অপব্যবহার’ সত্ত্বেও শাসক এনডিএ-র জয় নিশ্চিত করা যাবে না। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রচারে এনডিএ তাদের প্রায় ২০১ জন বিধায়ককেই নামিয়েছিল। প্রশান্ত কিশোরের অভিযোগ, “পায়ের নীচ থেকে মাটির তলা সরে যাচ্ছে বুঝতে পেরে বিজেপি জেডিইউ সভাপতি নীতীশ কুমারের একটি ভুয়ো ভিডিওও ছড়িয়েছে, যেখানে বিহারের দীর্ঘতম সময়ের মুখ্যমন্ত্রীকে তাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে দেখা যাচ্ছে।”
পটনা: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছিল তাঁর পার্টির৷ দীর্ঘ জল্পনা জিইয়ে রেখেও অবশ্য সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি ভোটকুশলী থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা প্রশান্ত কিশোর ওরফে পি কে৷ কিন্তু, বর্তমানে বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার ভোটে লড়তে চলেছেন তিনি৷ ইতিমধ্যেই যে উপ নির্বাচন ঘিরে পারদ চড়তে শুরু করেছে পড়শি রাজ্য বিহারে৷ বিজেপি নেতা তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ফলে বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঘোষণা হয়। এই নির্বাচনে মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে রাজনৈতিক মহলে এটি মূলত প্রশান্ত কিশোর এবং বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহার মধ্যে সরাসরি লড়াই হিসাবেই দেখা হচ্ছে। শুক্রবার ভোটগ্রহণ।
গতকাল মধ্যরাতে ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই পটনায় শুরু হয় টান টান নাটক৷ বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে বিহার পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর বহু সমর্থককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে জন সুরাজ পার্টি (জেএসপি)-র প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঁকিপুরের প্রার্থী প্রশান্ত কিশোরকে ঘিরে পাটনার জাক্কানপুর থানায় তীব্র নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রশান্ত কিশোর অভিযোগ করেন, শাসক বিজেপির নির্দেশেই পুলিশ তাঁর দলের বহু কর্মী-সমর্থককে আটক করেছে। তিনি দাবি করেন, জেএসপি-র অন্তত ১৬ জন সমর্থককে কোনও সরকারি নথিভুক্তি ছাড়াই পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। এই অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দলীয় কর্মীদের নিয়ে তিনি জাক্কানপুর থানায় পৌঁছন। ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে জাক্কানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) ঋতুরাজ কুমার সিংহের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা করছেন।
সংবাদসংস্থা এএনআই অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর বলেন, “আমার দলীয় কর্মীদের (যাদের আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ) যদি কোনও ক্ষতি হয়, তাহলে জাক্কানপুর থানার এসএইচও ঋতুরাজ কুমার সিংহকে চাকরি হারাতে হবে। উনিও সেটা খুব ভাল করে জানেন৷”
থানার বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রশান্ত কিশোর দাবি করেন, আটক কর্মীদের কোথায় রাখা হয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ কোনও তথ্য দিতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের বিভিন্ন থানায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁদের আটকের কোনও সরকারি নথিও নেই। জন সুরাজ পার্টির প্রধান আরও অভিযোগ করেন, উপনির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতেই শাসক বিজেপি পুলিশকে ব্যবহার করছে, কারণ তারা এই নির্বাচনে হারের আশঙ্কা করছে। এমনকি, তিনি দাবি করেন, মুখোমুখি কথা বলার সময় এসএইচও তাঁকে এবং তাঁর সমর্থকদের হুমকি দিয়েছেন। নির্বাচনের পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
প্রশান্ত কিশোরের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সমর্থকদের পুলিশি হেফাজতে আটকে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং বিষয়টিকে প্রশাসনিক পরিকাঠামো অপব্যবহার বলে অভিহিত করেন তিনি। প্রশান্ত কিশোর বলেন, “আমি এগুলোকে গ্রেফতারি বলছি না, কারণ আমার কোন কর্মীর কোন মামলায় নাম রয়েছে, তার কোনও নথি নেই। জাক্কানপুর থানায় তাঁদের রাখা হয়েছে বলে জানতে পেরে আমি এখানে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে শুনছি, তাঁদের সবাইকে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখানকার এসএইচও তো এমনও দাবি করছেন যে, এই থানার কোনও ভূমিকা ছিল না; উপরমহলের নির্দেশেই তাঁদের আটক করা হয়েছে।”
প্রাক্তন নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর আরও দাবি করেন, “স্পষ্টতই এই আটকের ঘটনার পেছনে শাসক বিজেপির হাত রয়েছে।” তিনি বলেন, “তারা জানে যে উপনির্বাচনে তারা হারতে চলেছে। আইন অনুযায়ী পুলিশ কোনও ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করেই ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত আটক রাখতে পারে। তাই আমার কিছু সমর্থককে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত আটকে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।”
Jul 30, 2026 12:39 PM IST
