এই মামলার তদন্তে পুলিশ এখন আরও জোরদারভাবে সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তদন্তের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিয়ার বাবা-মা তদন্তকারীদের কাছে বাগদান কীভাবে হয়েছিল তার একটি বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তবে তাঁদের এই বর্ণনা কেতনের পরিবার খুনের ঘটনার পর যে দাবি করেছিল, তার সঙ্গে আদতেই কোনও মিল নেই।
সিয়া কি সত্যিই খুনের ষড়যন্ত্র করতে পারে?
সিয়ার বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর মাত্র ২০ বছর বয়সি মেয়ে কোনও পরিস্থিতিতেই হত্যার পরিকল্পনা করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, ট্রেকিং ছিল কেতনের নেশা, সিয়ার নয়। তাঁর দাবি, যে কর্মকাণ্ডের জেরে শেষ পর্যন্ত কেতনের মৃত্যু হয়েছে, তার সঙ্গে সিয়ার ব্যক্তিগতভাবে কোনও বিশেষ আগ্রহ ছিল না।
পরিবারের দাবি, কেতন ছিলেন “হিরের টুকরো ছেলে”, একটি ভাল পরিবারের সন্তান। তারা আরও জানিয়েছেন, সিয়ার কথিত সহযোগী চেতন চৌধুরীর নাম তাঁরা কখনও শোনেননি; সংবাদমাধ্যমে তার নাম প্রকাশ্যে আসার পরই প্রথম তাঁরা চেতনের সম্পর্কে জানতে পারে। পাশাপাশি পরিবারের দাবি, সিয়া পার্টিতে গেলেও তিনি কখনও মদ্যপান করতেন না।
পরিবার আসলে কবে ‘উইগ’ ও ‘তোতলামি’-র বিষয়টি জানতে পারে?
এই বিষয়েই দুই পরিবারের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে। সিয়ার বাবা-মা পুলিশকে জানিয়েছেন, বাগদানের আগে নয়, বরং বাগদান অনুষ্ঠানের পরের দিনই তারা জানতে পারেন যে কেতন উইগ পরতেন এবং তাঁর তোতলামির সমস্যা ছিল। অথচ কেতনের পরিবার প্রকাশ্যে দাবি করেছিল যে, এই বিষয়টি বাগদানের আগেই সিয়ার পরিবার জানত।
সিয়ার বাবা-মায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানার পর তাঁরা তা নিয়ে সিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর সিয়া অনলাইনে কেতনের প্রোফাইল খুঁজে দেখেন এবং তাঁর প্রকাশ্য বক্তৃতাগুলি শোনেন। সব কিছু বিবেচনা করার পরই তিনি বিয়েতে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে, কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল এর আগে দাবি করেছিলেন যে, তাঁর ছেলের সামান্য চুল পড়ার বিষয়টি “বাগদানের অনেক আগেই সিয়া গোয়াল ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে খোলাখুলিভাবে আলোচনা করা হয়েছিল।” তিনি আরও বলেছিলেন, “সিয়ার যদি এ নিয়ে কোনও আপত্তি থাকত, তাহলে তিনি সহজেই ‘না’ বলতে পারতেন।”
এখনও পর্যন্ত মামলায় কী জানা গিয়েছে?
২৫ বছর বয়সি কেতন আগরওয়ালের মৃত্যু হয় ১৮ জুন পুণের কাছে অবস্থিত লোহাগড় দুর্গ থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনায়। প্রথমে ঘটনাটিকে ট্রেকিংয়ের সময় ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, বর্তমানে পুলিশ এটিকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে যাওয়ার সময় কেতনকে প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।