Last Updated:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রকগুলির শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে মঙ্গলবার প্রায় চার ঘণ্টার বৈঠক করেন। সেখানে তিনি সরকারের অগ্রাধিকার কী, কীভাবে কাজ করা উচিত এবং প্রশাসনের কাছে সরকারের প্রত্যাশা কী— সে সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ জোর ছিল ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ (Ease of Doing Business), ‘ইজ অফ লিভিং’ (Ease of Living) এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর উপর। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে দৃশ্যমান হতে হবে।
নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা ওই বৈঠকে তিনি একে একে সকলের কাছে জানতে চান, তাঁরা কী কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তগুলির বাস্তব ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব পড়েছে। কতজন মানুষ তার সুফল পেয়েছেন, তাও জানতে চান তিনি। মন্ত্রকগুলির সচিবদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, সরকারি প্রকল্পগুলিকে শুধু ফাইলবন্দি করে রাখলে চলবে না। তার প্রভাব শুধু কাগজে-কলমে নয়, সাধারণ মানুষের জীবনে দৃশ্যমান হতে হবে। ফলাফল চোখে পড়তে হবে এবং পরিবর্তন মানুষকে অনুভব করতে হবে।
বৈঠকে দুটি বড় বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথমত, ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা (Ease of Doing Business) এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ (Ease of Living) করতে অপ্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন বাতিল করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর করা। দ্বিতীয়ত, ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিবরা তাঁদের নিজ নিজ দপ্তরে চলা সংস্কার, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী কর্মকর্তাদের বলেন, মন্ত্রকগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। তিনি প্রত্যেক দপ্তরের আলাদাভাবে কাজ করার পুরনো পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে ‘হোল অফ গভর্নমেন্ট’ (Whole of Government) অর্থাৎ সমগ্র সরকারের সমন্বিতভাবে কাজ করার মডেলের ওপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, একাধিক প্রকল্প তখনই সফল হবে, যখন বিভিন্ন মন্ত্রক একযোগে কাজ করবে।
সিদ্ধান্তের সুফল যেন সময়মতো মানুষের কাছে পৌঁছায়:
প্রধানমন্ত্রী সচিবদের ‘পিএম গতিশক্তি’ (PM GatiShakti) প্ল্যাটফর্মের সর্বাধিক ব্যবহার করারও পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রক আরও ভালভাবে সমন্বয় করতে পারবে, প্রকল্পগুলির পরিকল্পনা আরও কার্যকর হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও দ্রুততর হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, কোনও প্রকল্পের সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড তার ফাইল নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনে তার বাস্তব প্রভাব। তিনি কর্মকর্তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে এবং সরকারি সিদ্ধান্তের সুফল যেন সময়মতো মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
যদিও এই বৈঠকে কোনও নতুন প্রকল্প বা বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবুও প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, সরকারের মূল লক্ষ্য হবে নিয়মকানুন আরও সহজ করা, মন্ত্রকগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর গতি ত্বরান্বিত করা এবং সরকারি প্রকল্পের বাস্তব প্রভাব নিশ্চিত করা। আগামী দিনে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলার ক্ষেত্রে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
Kolkata,West Bengal
