রাঁচি : নারকীয়। তিন বছরের শিশুকে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগে তোলপাড়। এই কুকর্মের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত যা ব্যবস্থা নিল তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। জরিমানার টাকার একাংশ ব্যবহার হল উদযাপনে। পরে এই ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পদক্ষেপ করে পুলিশ। ঝাড়খণ্ডের ঘটনা।
অভিযুক্ত সুনীল লোহরা শনিবার সন্ধেয় ওই শিশুটির বাড়ি গিয়েছিল। সেই সময় তার মা সেখানে ছিলেন। সুনীল শিশুটির মাকে তাঁর কাজে মন দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের কোলে নেয়। এরপর সে শিশুটিকে অন্য একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নিগ্রহ করে বলে অভিযোগ। শিশুটি যখন যন্ত্রণা-কষ্টে কাঁদতে শুরু করে তখন তার মা দৌড়ে আসেন। প্রথমে একজন প্রাইভেট ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটিকে। মামলাটি সরাসরি পুলিশের কাছে না পাঠিয়ে বিষয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতের হাতে তুলে নেওয়া হয়। জানা যায়, কয়েকজন সদস্য ঘটনাটি বাইরে না জানিয়ে গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন। এরপর রবিবার একটি মিটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে অভিযুক্তকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। আইনের আশ্রয় না নিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিটিয়ে ফেলার উপায় হিসেবেই সম্ভবত এমনটা করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি সেই জরিমানার অর্থের মধ্যে প্রথমেই ২০,০০০ টাকা মিটিয়ে দেয়। এরপর কাউন্সিল সেই অর্থ দিয়ে মাংস ও মদ-সহ ভোজের আয়োজন করে। জানা যায়, এরপর অভিযুক্তকে বাকি ৮০,০০০ টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে মিটিয়ে দিতে বলা হয়।
ঘাগরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহন কুমার জানান, পুলিশ খবর পেয়েছিল যে গ্রামবাসী ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং গ্রামের ভেতর থেকে আসা চাপের কারণেই বিষয়টি থানা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি।
এরপর ঘাগরা পুলিশ গ্রামে গিয়ে ওই শিশুর মায়ের দেওয়া বিবৃতির ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রামেরই কেউ তাদের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছিল। রবিবার পুলিশ কর্মীরা যখন সেখানে পৌঁছান, তখন জরিমানার টাকায় আয়োজিত সেই উদযাপন চলছিল। ওই জমায়েত চলাকালেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় এবং পুলিশ শিশুটির মায়ের জবানবন্দি রেকর্ড করে।
পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, ঘটনার পর গ্রামে একটি বৈঠক হয়েছিল, কিন্তু তাঁকে সে বিষয়ে জানানো হয়নি। তিনি জানান, পুলিশ আসার পর এবং বিষয়টি জানাজানি হতেই কেবল তিনি ওই বৈঠকের কথা জানতে পারেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।