রাজ্যসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১২৩ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন৷ বিজেপি-র সাংসদ সংখ্যা ১১৭-তে পৌঁছলে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যা থেকে মাত্র ৬ জন সাংসদ কম থাকবে বিজেপি-র পক্ষে৷ রাজ্যসভার ইতিহাসে এর আগে শেষ বার প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধির আমলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছতে পেরেছিল কংগ্রেস৷
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা বিজেপি এখনই ছুঁতে না পারলেও সাধারণ বিলগুলি পাশ করার জন্য সুবিধাজনক জায়গায় থাকবে এনডিএ জোট৷ কারণ তাদের হাতে ১৫২ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছ৷
তবে সাধারণ বিলগুলি পাশ হয়ে গেলেও সংবিধান সংশোধনী বিলগুলি পাশ করানোই বিজেপি-র কাছে প্রধান চ্যালেঞ্জ হতে চলেছ৷ কারণ রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধনী বিলগুলি পাশা করানোর জন্য ভোটদানের সময় উপস্থিত সাংসদদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন৷ যদি রাজ্যসভার সব সাংসদ উপস্থিত থাকেন এবং ভোট দেন, সেক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে ১৬৬ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন হবে৷
আগামী দিনে সংসদে ফের একবার সীমানা পুনর্বিন্যাস, মহিলা সংরক্ষণের মতো সংবিধান সংশোধনী বিলগুলি পেশ করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার৷
তবে সরাসরি এনডিএ দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন না পেলেও ঘুরুপথে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করিয়ে নিতে পারে বিজেপি৷ কারণ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দল এই গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলিতে ইস্যু ভিত্তিক সমর্থন জানাতে পারে৷ আবার কয়েকটি দলের ভোটদানে বিরত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে৷ সেক্ষেত্রে ভোটদানকারী সাংসদের সংখ্যা কমলে স্বভাবতই দুই তৃতীয়াংশ সমর্থনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাও অনেকটা কমবে৷
ওয়াইএসআর কংগ্রেস- ওয়াইএসআর কংগ্রেসের হাতে রাজ্যসভায় ৪ জন সাংসদ আছেন৷ কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থনের সম্ভাবনা বেশি৷ সীমানা পুনর্বিন্যাস বিলে সমর্থনের সম্ভাবনাও রয়েছে৷
ডিএমকে- রাজ্যসভায় ৮ জন ডিএমকে সাংসদ আছেন৷ এম কে স্ট্যালিনের দল হয় বিলে সমর্থন জানাতে পারে, নাহলে বিজেপি-র সুবিধা করে ভোটদানে বিরত থাকতে পারে৷
বিজু জনতা দল- রাজ্যসভায় বিজেডি-র সাংসদ সংখ্যা ৫ জন৷ নবীন পট্টনায়েকের দলও হয় মহিলা সংরক্ষণ বিলে সমর্থন, নয়তো ভোটদানে বিরত থাকতে পারে৷
নির্দল সাংসদ পরিমল নাথওয়ানি- নির্দল এই সাংসদের এনডিএ-কে সমর্থনের সম্ভাবনাই বেশি৷
শরদ পাওয়ার পন্থী এনসিপি- ১ জন সাংসদও সংবিধান সংশোধনী বিলে সমর্থন করতে পারেন৷