গত এক বছরে RBI প্রায় ১.২৫ শতাংশ রেপো রেট কমিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি বৈঠকে সুদের হারে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তাদের নীতিগত অবস্থানও (Policy Stance) ‘নিউট্রাল’ রেখেছে।
কী বললেন RBI গভর্নর?
RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সরবরাহ শৃঙ্খলের (Supply Chain) সমস্যার পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতেও পড়ছে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও দেশের খুচরো মূল্যস্ফীতি (Retail Inflation) এখনও RBI-র নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার নীচে রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা প্রভাবিত হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও বেড়েছে।
গভর্নরের মতে, সরবরাহজনিত ধাক্কার (Supply Shock) প্রভাব চলতি অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিক এবং তার পরেও বজায় থাকতে পারে। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর পূর্বাভাস এবং এল নিনো (El Niño)-সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
রেপো রেটে কোনও পরিবর্তন না হওয়ার অর্থ হল, আপাতত হোম লোন, গাড়ির ঋণ এবং অন্যান্য ঋণের সুদের হার বাড়ছে না।
ফলে বর্তমানে যাঁরা ঋণ পরিশোধ করছেন, তাঁদের EMI-ও বাড়বে না। এটি ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
RBI-র জুন মাসের MPC বৈঠক এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ভারতীয় অর্থনীতি এখনও একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের (FY27) জন্য ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ভিত্তিক মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৫.১ শতাংশ করেছে।
এর আগে RBI মূল্যস্ফীতি ৪.৬ শতাংশ থাকতে পারে বলে অনুমান করেছিল। তবে নতুন পূর্বাভাসে তা বাড়ানো হয়েছে।
ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে RBI-র মূল্যস্ফীতির অনুমান:
প্রথম ত্রৈমাসিক (Q1): ৪.২%দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (Q2): ৫.১%তৃতীয় ত্রৈমাসিক (Q3): ৫.৯%চতুর্থ ত্রৈমাসিক (Q4): ৫.৯%
RBI রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখায় আপাতত ঋণগ্রহীতাদের EMI বাড়ার আশঙ্কা নেই। তবে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি কোন দিকে যাবে, সেদিকে নজর থাকবে বাজার এবং বিনিয়োগকারীদের।