RBI-এর তিনদিনব্যাপী মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) বৈঠকের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, আগামী দিনে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। চলতি অর্থবর্ষে কোর ইনফ্লেশন (Core Inflation) ৪.৭ শতাংশ থাকতে পারে বলেও অনুমান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
কেন বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি?
RBI গভর্নরের মতে, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে কাঁচামালের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবার খরচ বেড়ে যেতে পারে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।
এছাড়াও RBI-এর মুদ্রানীতি কমিটি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের (FY26) চারটি ত্রৈমাসিকের জন্য যে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বছরের শেষভাগে মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।
RBI-এর মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস প্রথম ত্রৈমাসিক (Q1): ৪.২%, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (Q2): ৫.১%, তৃতীয় ত্রৈমাসিক (Q3): ৫.৯%, চতুর্থ ত্রৈমাসিক (Q4): ৫.৯%
তৃতীয় ত্রৈমাসিক সাধারণত উৎসবের মরশুম হওয়ায় এই সময়ে চাহিদা বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।
মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার পূর্বাভাস থাকলেও RBI-এর মতে বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেছেন, মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত ঝুঁকি এখনও “ভারসাম্যপূর্ণ” অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ, সরকার এবং RBI যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।
কোন কোন জিনিসের দাম বাড়তে পারে?
১. জ্বালানি
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম বৃদ্ধির ফলে দেশে পেট্রোল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২. রেস্তোরাঁয় খাওয়ার খরচ
বাণিজ্যিক LPG সিলিন্ডারের দাম বাড়লে রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলির পরিচালন খরচ বৃদ্ধি পাবে। এর প্রভাব খাবারের বিলেও পড়তে পারে।
৩. ফল, সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য
ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহণ খরচও বেড়ে যায়। ফলে ফল, সবজি, শস্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৪. ইলেকট্রনিক্স ও গাড়ি
লোহা, অ্যালুমিনিয়াম এবং তামার মতো বেস মেটালের দাম বাড়ায় ইলেকট্রনিক পণ্য, গাড়ি এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে।
৫. বাড়ি নির্মাণের খরচ
নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়লে বাড়ি তৈরি বা সংস্কারের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
RBI মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়ালেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, ইলেকট্রনিক্স এবং নির্মাণ সামগ্রীর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ মানুষের ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে। তাই আগামী কয়েক মাসে বাজার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।