বুধবার সকালে নির্ধারিত সময়েই ওই বুথে পৌঁছন লাভলী মৈত্র। সাধারণ ভোটারদের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। ভোট দেওয়ার পর বুথ থেকে বেরিয়ে এসে তিনি জানান, এই প্রথমবার তিনি নিজেকে ভোট দিলেন, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে সেই মুহূর্তের আবেগের মধ্যেই সামনে আসে একাধিক অভিযোগ এবং ক্ষোভ।
লাভলীর অভিযোগ, বুথে প্রবেশের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কিছু সদস্যের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি হয়। যদিও ঠিক কী কারণে এই তর্কের সূত্রপাত, তা স্পষ্টভাবে জানা না গেলেও, তিনি ইঙ্গিত দেন যে বাহিনীর আচরণে তিনি অসন্তুষ্ট। তাঁর দাবি, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিরপেক্ষ হওয়া উচিত, কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে লাভলী মৈত্র আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, “অনেক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে। তাঁরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে পারছেন না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।” তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবেই কিছু নির্দিষ্ট এলাকার ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলা যায়।
এখানেই থেমে থাকেননি তৃণমূল প্রার্থী। তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির হয়ে কাজ করছে। তাঁর দাবি, “কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। তারা বিজেপিকে সাহায্য করছে, যা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূচনা হয়েছে।
লাভলী মৈত্র বিজেপির বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “মানুষ সব দেখছে। আজকের পর বিজেপির আর কোনও জায়গা থাকবে না বাংলায়।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভোটের দিন এই ধরনের মন্তব্য যে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে লাভলীর সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল প্রার্থী ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবেই কাজ করছে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
ঘটনার পর বুথ এলাকায় কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনা তৈরি হলেও, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও গোটা ঘটনার উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ভোটের দিনে এই ধরনের তর্ক-বিতর্ক এবং অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ নতুন নয়, তবে প্রতিবারই তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সোনারপুর দক্ষিণে লাভলী মৈত্রকে ঘিরে এই ঘটনা আবারও সেই প্রশ্নকেই সামনে এনে দিল। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলিকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং কী পদক্ষেপ নেয়।