Last Updated:
CM Suvendu Adhikari: কাঁথির এই ব্যায়ামাগারই ছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ফিটনেসের মূল ঠিকানা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিয়ম মেনে যৎসামান্য চাঁদা দিয়ে জিম করা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সেই অজানা দিনগুলির গল্প শোনালেন তাঁর প্রধান প্রশিক্ষক।
কাঁথি, সৈকত শী: একসময় নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন মুখ্যমন্ত্রী, আজ ধুঁকছে শহরের প্রাণকেন্দ্রের ঐতিহ্যবাহী সেই শরীরচর্চা কেন্দ্র। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘কাঁথি সুভাষ ব্যায়ামাগার’ বর্তমানে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি। ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জিমখানাটি একসময় মুখরিত থাকত অঞ্চলের বহু বিশিষ্ট মানুষের উপস্থিতিতে। বিশেষ করে, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানে নিয়মিত শরীরচর্চা করেছেন। সেই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানই চরম অর্থকষ্টে ধুঁকছে এবং এর পুনরুজ্জীবনের জন্য খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দিকেই তাকিয়ে আছেন ব্যায়ামাগারের কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকেরা।
সুভাষ ব্যায়ামাগারের দীর্ঘদিনের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ধাপে ধাপে এই জিমখানা গড়ে উঠেছে এবং এর সমৃদ্ধির পিছনে অধিকারী পরিবারের অবদান অনস্বীকার্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং এবং তাঁর পিতা শিশির অধিকারী-সহ পরিবারের সকলেই বিভিন্ন সময়ে এই সংস্থাকে প্রভূত আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। জিমখানার উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান পদেও দীর্ঘকাল ধরে যুক্ত রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী ব্যায়ামাগারের অন্যতম সম্পাদক তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে কমিটির অনেকেই এখন সেভাবে সময় দিতে পারছেন না, যার ফলে জিমখানার প্রশাসনিক ও আর্থিক পরিচালনায় বড়সড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে জিমখানাটিতে গড়ে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন সদস্য নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। কিন্তু সদস্য থেকে প্রাপ্ত সামান্য মাসিক ফি দিয়ে জিমখানার রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুতের বিল এবং অন্যান্য খরচ চালান অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে এক চরম আর্থিক অনটন গ্রাস করেছে এই ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে। ২০০২ সাল থেকে ১৪ সাল পর্যন্ত এই জিমখানায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিয়মিত ব্যায়াম করতেন। তিনি ব্যায়ামের প্রতি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও আন্তরিক ছিলেন। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝে গভীর রাতেও তিনি জিমখানায় আসতেন। তৎকালীন সময়ে মাত্র ৭৫ টাকা মাসিক চাঁদা উনি নিয়ম মেনে দিতেন।
ব্যায়ামাগারের প্রধান প্রশিক্ষক অনুপম কৃষ্ণ মাইতি, যাঁকে মুখ্যমন্ত্রী ভালবেসে ‘নাড়ু বাবু’ বলে ডাকেন, তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, ২০০২ থেকে প্রায় ২০১৪ সাল পর্যন্ত নন্দীগ্রাম আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলির মাঝেও শুভেন্দুবাবু নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রেখেছিলেন। এই জিমখানায় এসে দীর্ঘ সময় কাটাতেন তিনি। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পর ও পরবর্তীতে রাজনৈতিক ব্যস্ততা বাড়ার কারণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জিমখানায় আসা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে জিমখানার এই চরম দুরাবস্থা। তাঁরা আশা করছেন, সরকারি সাহায্য বা বিশেষ অনুদানের মাধ্যমে কাঁথি শহরের এই প্রাণকেন্দ্রের ঐতিহাসিক জিমখানাটি আবার তার পুরনো গৌরব ফিরে পাবে।
Purba Medinipur,West Bengal
CM Suvendu Adhikari: ব্যস্ততার মাঝেও গভীর রাতে শরীরচর্চা! কাঁথির এই জিমেই ব্যায়াম করতেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কত টাকা চাঁদা দিতেন?