তবে কি এবার বিধানসভার পরিষদীয় দলের মতো সাংসদদের মধ্যেও হবে ভাঙন? সেক্ষেত্রে, কারা, কোন সাংসদেরা থাকবেন মমতার পক্ষে আর কারা নয়? সেই নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা৷
কী বললেন সুখেন্দুশেখর রায়?
এদিন তাৎপর্যপূর্ণ কথা শোনা গিয়েছে তৃণমূলের ‘বেসুরো’ রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের মুখে৷ তৃণমূলের ভাঙন প্রসঙ্গে তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘আমি নদীর ধারে জন্মেছি। পদ্মার ভাঙন ভয়ংকর। মাটি তলায় তলায় কেটে গেছে। একদিন গ্রাম ধসে গেল। প্রাকৃতিক নিয়মে রাজনৈতিক দলের ভাঙন তেমন। বিধানসভায় যা ঘটেছে তার ৮০ জনের মধ্যে একেবারে বেরিয়ে গিয়ে ৬০ জনের জেহাদ ঘোষণা বিরল। এই দল টিকবে না। এর প্রতিক্রিয়া সাংসদদের মধ্যে পড়বে না তা হবে না।’’
তাঁর মতে, ‘‘খুব শীঘ্রই লোকসভায় কিছু একটা হতে চলেছে। লোকসভার পরে রাজ্যসভা হয়ত হবে।’’ তবে কি প্রতীক এবং দলের নাম দু’টোই হারাতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে? সুখেন্দু শেখরের কথায়, ‘‘প্রতীক ও নাম চলে যাওয়া একটা প্রক্রিয়া। কমিশনের নিয়ম আছে একটা। (একটু ইতিহাস বলে দিয়েছেন, নিয়ম সহ) যে পক্ষে পদাধিকারী বেশি থাকবে। তারা পাবে। এমন নজির আছে। মামলা মোকদ্দমা আছে। শেষ অবধি আদালতে যাবে। সোমবার নিয়ে কিছু একটা ঘটতে পারে আবার নাও পারে।’’
কী বললেন কীর্তি আজাদ, মেনকা গুরুস্বামী?
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষেই থাকছেন, স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং রাজ্যসভার সাংসদ মেনকা গুরুস্বামী৷
এদিন কীর্তি আজাদ বলেন, ‘‘দল হারতেই দুর্নীতির কথা মাথায় এল? কাকলি ঘোষ দস্তিদার এতদিন কোথায় ছিলেন? কাকলিকে সাংসদ কে বানিয়ে ছিলেন? এদের জন্য ঘৃণা হয়। ভাল হয়েছে এরা চলে যাচ্ছেন, কমপক্ষে মানুষ বুঝতে পারছেন প্রয়োজনের সময় এরা ইঁদুরের মতো পালাচ্ছে। ’’
ইতিমধ্যেই দলে থেকেও দূরত্ব বাড়িয়েছেন কাকলি৷ রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, বিধানসভায় ঋতব্রতের মতোই লোকসভায় কাকলির নেতৃত্বে ভাঙন ধরতে পারে তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে৷ ইতিমধ্যেই একাধিক সাংসদ ব্যক্তিগত ভাবে একে অপরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে সূত্রের খবর৷
সেই প্রসঙ্গ তুলে কীর্তি আজাদ বলেন, ‘‘যারা বিজেপির ফাঁদে পা-দিয়ে লোকসভায় পৃথক গোষ্ঠী তৈরির চেষ্টা করছেন, তাঁরা বেইমান, বিশ্বাসঘাতক, কাপুরুষ। তাঁরা আসলে ইঁদুর। জাহাজ ডোবার সময় যেভাবে ইঁদুর পালায় এরাও সেভাবে পালাচ্ছে। দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের নয়, গদ্দারদের মিটিং হচ্ছে।’’
পাশাপাশি, মমতার সঙ্গ না ছাড়ার কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে কীর্তি আজাদ বলেন, ‘‘আমি মমতার সঙ্গ ছাড়ছি না। আমি বিশ্বাসঘাতক নই। গদ্দার নই৷ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তরুণ নেতা। তাঁর ভুল ত্রুটি থাকলে তা শুধরে নেওয়ার অনেক সময় রয়েছে। এখন এঁরা অভিষেকের ভুল খুঁজে পাচ্ছেন? নির্বাচনের আগে কেন বলেননি? নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেকের দফতরের সামনে হাতজোড় করে বসে থাকতেন প্রচারে নিয়ে যাওয়ার জন্য।’’
অন্যদিকে, রাজ্যসভার আরেক সাংসদ মেনকা গুরুস্বামীর বক্তব্য, ‘‘আই সাপোর্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমপ্লিটলি৷” তিনি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে তাঁর। মমতা দিল্লি যাওয়ার পরে ফের তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানান মেনকা। এক সাংসদ বাদে রাজ্যসভার সমস্ত সাংসদরা একত্রিত রয়েছেন বলেও ইঙ্গিত মেনকার।
বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। রচনা, দেব-ও কেমন বেসুরো৷ দেখা যাচ্ছে না মহুয়া মৈত্রকেও৷ সূত্রের খবর, জগদীশ বাসুনিয়াকে ফোন করেছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। জানতে চান কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে আসেননি। উত্তরে জগদীশ ছেলের অসুস্থতার কথা বলেছেন। কোচবিহারে সাংসদ জগদীশ বাসুনিয়ার কাছে কোথায় আছেন সেই ছবি-সহ প্রমাণ চেয়েছে দল— উঠে এসেছে গুরুতর অভিযোগ। ডেরেকের বিরুদ্ধে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ তিনি।
প্রসঙ্গত, জগদীশ বাসুনিয়ার বিধায়ক স্ত্রী সঙ্গীতা রায় বুধবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে বিধানসভায় গিয়ে স্বাক্ষর করেছেন।
বাসুনিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তিনি কী করবেন এখনও সিদ্ধান্ত নেননি। তবে দলের একটা বড় অংশ যে দিকে থাকবেন, সে দিকেই থাকবেন বলে ইঙ্গিত নিয়েছেন তিনি। শুক্রবার লোকসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছিলেন তাঁকে। তিনি কল্যাণের ফোন ধরেননি বলে জানা গিয়েছে৷
সেলিব্রেটি সাংসদরা দলের থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে কানাঘুষো। সূত্রের খবর, দেব, রচনা, জুন ব্যস্ত শুটিংয়ে। সায়নী ঘোষও কোন পক্ষে আছেন, তা বলা যাচ্ছে না।