মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তাহলে মার্কিন সামরিক হামলা আরও তীব্র হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালানোর পর এই বার্তা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (United States Central Command) এই হামলাকে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পরিচালিত “আত্মরক্ষামূলক হামলা” (self-defense strikes) বলে বর্ণনা করেছে।
ট্রে ইয়িংস্ট জানান, তিনি সরাসরি ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ইরানের নেতারা যদি কোনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে সম্মতি না হয়, তাহলে কী হবে। ইয়িংস্ট লিখেছেন, “আমি ওঁকে (ট্রাম্প) জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ইরান যদি চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে তাহলে কী হবে।” তার জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তাহলে আমরা আগামিকাল রাতেই ওদের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ করব।”
এই মন্তব্যকে আরও জোরালোভাবে প্রচার করেন লরা ইনগ্রাহাম, এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লেখেন: “ইরানের প্রতি ট্রাম্পের বার্তা: চুক্তিতে সই করুন।”
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই মন্তব্যকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেহরানের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার অভিযোগ করেছেন যে, ইরান আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করছে এবং তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের একাধিক স্থানে আঘাত হানা হয়েছে। CENTCOM জানিয়েছে, ইরানের অব্যাহত আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তার প্রশাসন সামরিক চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি আলোচনার জন্য শেষবারের মতো একটি প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। আরও হামলার হুমকি দিলেও, প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে, ইরান যদি ওয়াশিংটনের শর্তগুলো মেনে নেয়, তাহলে এখনও একটি সমঝোতা সম্ভব।
ট্রাম্পের সর্বশেষ এই আল্টিমেটামের বিষয়ে ইরান তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এর আগে ইরানি আধিকারিকদের সামরিক চাপের মধ্যে পরিচালিত কূটনৈতিক প্রস্তাবের প্রক্রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আমেরিকার তরফে অব্যাহত থাকা হামলাকে আলোচনার প্রক্রিয়া দুর্বল করার প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ করেছেন।
সর্বশেষ এই সামরিক পদক্ষেপটি এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর একদিন পর। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তেহরান একটি মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারকে বোমা মেরে নামানো হয়েছে।
এর পর Islamic Revolutionary Guard Corps অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার ঘোষণা করেছে ইরাম, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।