কলকাতা: আয়কর জমা দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। আর সেই সময় আসতেই অনেকের মনে একটা প্রশ্ন আসতে শুরু করেছে যে, কারও উপার্জন যদি করযোগ্য আয়ের কম হয় তাহলে কি তার আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক? আয়কর আইন অনুযায়ী নির্ধারিত করমুক্ত সীমার নিচে আয় থাকলে সাধারণত রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘নিল রিটার্ন’ বা NIL Return দাখিল করা অনেক ক্ষেত্রেই উপকারী হতে পারে।
নিল রিটার্ন হল এমন একটি আইটিআর, যেখানে করদাতার মোট দেওয়া কর শূন্য থাকে। অর্থাৎ, আয় করযোগ্য সীমার নিচে হওয়ায় কোনও কর দিতে হয় না। যদিও করযোগ্য আয় না থাকলে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক নয়। তবুও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি হিসেবে কাজ করে। বিদেশে ভিসার আবেদন, ব্যাঙ্ক ঋণ, ক্রেডিট কার্ড বা অন্যান্য আর্থিক পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণ প্রায়ই চাওয়া হয়। নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করলে ব্যক্তির অর্থনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাও বাড়ে।
এছাড়া, অনেক সময় TDS কাটা যায়। করদাতার উপার্জন করযোগ্য সীমার নিচে থাকলেও এমন অবস্থা হয়। এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত কাটা কর ফেরত পেতে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।
আরও পড়ুন: আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এই ভুল একদম নয়, না হলেই আসতে পারে IT নোটিস
তবে কিছু ক্ষেত্রে আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলেও আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া আইনত প্রয়োজন। যেমন, বছরে সেভিংস অ্যাকাউন্টে ৫০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি জমা, কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ১ কোটি টাকার বেশি লেনদেন, ৬০ লক্ষ টাকার বেশি ব্যবসায়িক টার্নওভার, ১০ লক্ষ টাকার বেশি পেশাগত আয়, বছরে ১ লক্ষ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল, ২৫ হাজার টাকার বেশি TDS/TCS, বিদেশি সম্পত্তির মালিকানা বা ২ লক্ষ টাকার বেশি বিদেশ ভ্রমণের খরচ থাকলে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, করদায় না থাকলেও NIL Return দাখিল করা ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকল্পনা ও নথিপত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী পদক্ষেপ।
ABI News: ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার কমাল এসবিআই,১৬ মে থেকে কার্যকর হবে নতুন সুদের হার