সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিধায়কদের সমর্থন নিশ্চিত করেই তাঁদের এউ অভিযান থেমে থাকবে না। বরং এবার তাঁরা দলের সাংগঠনিক কাঠামো, পুরসভা, পুরনিগম, জেলা পরিষদ এবং জেলা স্তরের সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তারের দিকে এগোবেন।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন এবং বলেন যে এটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায় হবে।
ঋতব্রতের দাবি, বিধায়ক ও সাংসদদের বিষয়টির সমাধা হওয়ার পরে তাঁদের পরবর্তী লক্ষ্য হবে দলের তৃণমূল স্তরের সাংগঠনিক কাঠামো পর্যন্ত পৌঁছনো৷ কারণ, সেটাই দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের শক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি বলেন, “এমপি-এমএলএদের বিষয়টি শেষ হলে পুরসভাগুলো আমাদের দিকে আসবে। পুরসভা, পুরনিগম, জেলা পরিষদ, এমনকি বিভিন্ন জেলার সভাপতিরাও ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এটা সংসদীয় গণতন্ত্র। সংসদীয় গণতন্ত্রে সংখ্যাই শেষ কথা। যাই হোক, নির্বাচন কমিশনে দেখা হবে।”
তাঁর কথায়, আন্দোলনটি একটি নির্দিষ্ট ক্রম মেনে এগোচ্ছে—প্রথমে বিধায়ক, তারপর সাংসদ, এবং এরপর দলের অন্যান্য স্তর। তিনি বলেন, “তৃণমূলের তৃণমূল স্তরের সংগঠন বৈঠক করবে। আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করছি। প্রথম লক্ষ্য ছিল বিধায়করা, তারপর সাংসদরা। এরপর ধীরে ধীরে আমরা পুরনিগম, তারপর পুরসভা, তারপর জেলা পরিষদগুলোর দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেব।”
তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে বিদ্রোহী শিবির এখন শুধু আইনসভায় নয়, দলের সম্পূর্ণ সাংগঠনিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৃহত্তর লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জবাব দেন।
তিনি বলেন, “আমরাই তৃণমূল। আসল-নকল আবার কী? দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিধায়ক আমাদের সঙ্গে আছেন। প্রয়োজন হলে আমরা নির্বাচন কমিশনে যাব।”
ঋতব্রত এদিন একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিচালন পদ্ধতিরও তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে তোলা একটি তৃণমূল স্তরের সংগঠনকে দারুণভাবে একটা কর্পোরেট আমলাতন্ত্র দখল করে নিয়েছে।”
তবে সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের পরিকল্পনা তুলে ধরলেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন যে, এই আন্দোলন ব্যক্তিগতভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নয়।
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এ দিনও দাবি করেছেন, তাঁরা কোনও নতুন দলে মিশছেন না৷ ঋতব্রত বলেন, আমরা এনসিপিআই সম্পর্কে শুনেছি, কিন্তু এই দল সম্পর্কে কোনও সম্যক ধারণা নেই। এনসিপিআই নিয়ে আমাদের কারও কোনও ধারণা নেই। আমরা বিধানসভায় সদর্থক, গঠনমূলক বিরোধিতা করব। আমরা এমন কিছু করব না যাতে অসুবিধা হয়। বিল নিয়ে ভোটাভুটি হলে আমাদের যা সংখ্যা, তাতে হয়তো আমরা হেরে যেতে পারি। কিন্তু তার পরেও আমরা ওয়াকআউট করে যাব না। আমার কথাতেই স্পষ্ট, আমরা কী করতে চাইছি। প্রতীক নিয়ে আলোচনা এখনও হয়নি। আমরা কোনও দলের সঙ্গে মিশে যাইনি।