Last Updated:
দলের প্রবীণ নেতা ও রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় রাউত বুধবার সংসদ ভবনে এসে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লোকসভা সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত এবং অনিল দেশাই। এই তিন নেতা সংসদ ভবনে লোকসভা স্পিকার ওম বিরলার কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন।
মুম্বই: ‘অপারেশন টাইগার’কে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে মহারাষ্ট্রে। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার (ইউবিটি) মধ্যে বিদ্রোহের জল্পনা অবশেষে সত্যিই হল। দলের নয়জন সাংসদের মধ্যে ছয়জন একনাথের শিবসেনায় যোগ দিয়েছেন। এই বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জয় দেশমুখ, দিনা পাতিল, নাগেশ পাতিল অষ্টিকার, ওমরাজে নিম্বালকর, ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে এবং সঞ্জয় যাদব।
এদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি)-র প্রবীণ নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বিদ্রোহীদের সাপের সঙ্গে তুলনা করে বিজেপিকে সতর্ক করেছেন যে, কাল তাঁরা তাদেরই কামড় দেবে। বিদ্রোহ মোকাবেলায় শিবসেনা (ইউবিটি)-ও একটি পদক্ষেপ করেছে। উদ্ধব ঠাকরের অনুগত শিবসেনা (ইউবিটি)-র সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত লোকসভার স্পিকারকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন, ‘দলের কোনও সাংসদ যদি আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেন বা অন্য কোনও দলের সঙ্গে যোগ দেন, তবে যেন তাঁকে স্বীকৃতি না দেওয়া হয়।’ চিঠিতে লিখেছেন , ‘শিবসেনা (ইউবিটি) একটি একক রাজনৈতিক দল এবং আইনত বৈধ।সংসদে দলটির অস্তিত্ব তার মূল রাজনৈতিক দল থেকেই উদ্ভূত, এবং তাই, পৃথক গোষ্ঠীগুলো একই দলের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করতে পারে না।’
সাংসদেরা প্রথমে বুধবার দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন। তারপর তাঁদের যোগদানের ঘোষণা করেন। ঠাকরের শিবসেনায় এটি দ্বিতীয় বিভাজন। এর আগে ২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে দলটি বিভক্ত হয়েছিল। তখন নির্বাচন কমিশনও একনাথ শিন্ডের গোষ্ঠীকে মূল শিবসেনার মর্যাদা দিয়েছিল। সেই সময় ঠাকরে তার গোষ্ঠীর নাম দেন শিবসেনা ইউবিটি।
নিউজ১৮ মারাঠির একটি প্রতিবেদন অনুসারে, মহারাষ্ট্র বিধানসভায় শিবসেনা (ইউবিটি)-র ২০ জন বিধায়ক রয়েছেন। শোনা যাচ্ছে যে, এই বিধায়কদের মধ্যে ১৬ জন একনাথ শিণ্ডে গোষ্ঠীতে যোগ দিতে পারেন। এর আগে, তৃণমূল কংগ্রেসের ২২ জন সাংসদও দলত্যাগ করে এনসিপি-তে যোগ দিয়েছিলেন। এনসিপি এনডিএ-র মধ্যে একটি খুবই ছোট দল। তাই, জাতীয় রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। শিবসেনা (ইউবিটি)-র এই বিভাজন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ-কে সরাসরি লাভবান করবে। এর ফলে তাদের সংখ্যাগত শক্তি আরও বাড়বে। মনে করা হচ্ছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, যাতে তারা আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাস করতে পারে। শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে) গোষ্ঠীর সাংসদদের যোগদানের ফলে লোকসভায় এনডিএ-র শক্তি প্রায় ৩২০-এ পৌঁছেছে।
এর আগে, শিবসেনার ইউবিটি সাংসদ সঞ্জয় রাউত মুম্বইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে বিদ্রোহী এমপিদের হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা বিশ্বাসঘাতক।’ এমনকি, ক্যামেরার সামনেও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন। জানান, ‘এই নেতাদের প্রথমে পদত্যাগ করা উচিত এবং তারপর অন্য দলে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত।’
বাংলার পরে মহারাষ্ট্র, তৃণমূলের পরে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা দলেও বড়সড় ভাঙন। কয়েক দিন আগেই তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং যোগ দিয়েছেন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে। তাঁরা এনসিপিআই দলে যোগ দেন এবং পরে এনডিএকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। বিরোধী ইন্ডিয়া জোট এর জেরে বড় ধাক্কা খেয়েছে। এবার ফের বড় ধাক্কা খেতে পারে বিরোধী জোট। এবার ধাক্কা উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায়।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
