বেগুসরাই: বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ। পাঁচ জন মিলে অকথ্য অত্যাচার চালাল। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নির্যাতিতা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে দেখা যায়, নির্যাতিতার যৌনাঙ্গে বন্দুকের গুলি, কাঠের টুকরো ঢুকিয়ে দিয়েছে ধর্ষকরা। (Bihar Woman Assaulted)
বিহারের বেগুসরাইয়ে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ জুন এই ঘটনা ঘটে। চাকিয়া থানা এলাকায় বসবাস নির্যাতিতার। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, রাত ১১.৩০ নাগাদ টয়লেট গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় জোর করে বাড়িতে ঢুকে পড়ে পাঁচ দুষ্কৃতী। (Woman Assaulted in Bihar)
নির্যাতিতার দাবি, প্রথমে তাঁর স্বামীকে একটি ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি টয়লেট থেকে বেরোলে, তাঁর উপর চড়াও হয় সকলে। মুখে কাপড় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ির বাইরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। ফাঁকা জায়গায় পাঁচ জন মিলে ধর্ষণ করে তাঁকে।
বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ওই মহিলা। কিন্তু তাঁর বুকে, উরুতে এলোপাথাড়ি ব্লেড চালানো হয় বলে দাবি নির্যাতিতার। তিনি জানিয়েছেন, নিজের জা-কে প্রথমে ঘটনাটি জানান। তিনি এসে স্বামীকে ঘর থেকে বের করেন। খবর দেন থানায়। তাঁদের হাসপাতালে যেতে বলা হয়েছিল। সেই মতো বরাউনি হাসপাতালে যান। সেখান থেকে আবার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা হওয়ার পরও যন্ত্রণা কমছিল না নির্যাতিতার। যৌনাঙ্গে অসম্ভব যন্ত্রণা অনুভব করেন তিনি। সেই সময় চিকিৎসকরা জানান, ঘটনার সময় তাঁর যৌনাঙ্গে আঘাত পেয়েছেন তিনি। সেই অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসেন নির্যাতিতা। কিন্তু যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আবারও সদর হাসপাতালে ছুটে যান। সেবার পরীক্ষা করে দেখা যায়, নির্যাতিতার যৌনাঙ্গে কিছু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পর এক এক করে বের করা হয় গুলি, কাঠের টুকরে, একটি পাথরও। এখনও যন্ত্রণা সহ্য করে বেঁচে রয়েছেন ওই মহিলা।
নির্যাতিতা জানিয়েছেন, অত্যাচারের সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। তাই যৌনাঙ্গে কিছু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বুঝতে পারেননি।
আরও পড়ুন: ভাল তৃণমূলে, না খারাপ তৃণমূল, তিনি কোন শিবিরে? অরূপ বিশ্বাস বললেন…
গোটা ঘটনায় শিউরে উঠছেন স্থানীয় মানুষ জন। তবে এর আগেও দুষ্কৃতীরা ওই বাড়িতে হামলা চালায় বলে জানা যাচ্ছে। নির্যাতিতা জানিয়েছেন, মাস তিনেক আগে দরজা ভেঙে তিন দুষ্কৃতী ঢুকে পড়ে বাড়িতে। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। যৌন নিগ্রহের চেষ্টা হয় সেই সময়ও। টাকা, গয়না নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েও লাভ হয়নি। কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি সেবার।
এবারের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। DSP আনন্দ কুমার পান্ডে জানিয়েছেন, সায়েন্টিফিক তদন্ত চলছে। তাঁর কথায়, “মহিলার বয়ান সত্য। হাসপাতাল থেকে ১২ তারিখ সন্ধেয় বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু যন্ত্রণা অনুভব করছিলেন। পরে গুলি বের করা হয়।” দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে পুলিশের গাফিলতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
Haridevpur News: হরিদেবপুর নির্যাতনকাণ্ডে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত দেবাংশু বিশ্বাস