Last Updated:
PM Narendra Modi: ‘শুধু বাণিজ্য নয়, বিশ্বাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ’, ফ্রান্সে ভারতীয়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা।
কলকাতা: বিশ্বের বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে শুধু বাণিজ্য নয়, পারস্পরিক বিশ্বাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আজকের বিশ্বে বিভিন্ন দেশ নির্ভরযোগ্য অংশীদার এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) খুঁজছে, আর সেই প্রেক্ষাপটে ভারত একটি বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে উঠে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এক সময় ছিল যখন দেশগুলির মধ্যে সম্পর্ক শুধুমাত্র বাণিজ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতো। কিন্তু আজ বাণিজ্যের পাশাপাশি বিশ্বাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিটি দেশ একটি নির্ভরযোগ্য সাপ্লাই চেইন এবং স্থিতিশীল অংশীদারিত্ব চায়। এই পরিস্থিতিতে ভারত বিশ্বে একটি বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।”
নরেন্দ্র মোদি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও নানা ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি জানান, চলতি বছরে ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ককে ‘স্পেশাল গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের নিস শহরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো-এর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে কীভাবে বৈশ্বিক কল্যাণের শক্তিতে পরিণত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, পারমাণবিক শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং উচ্চগতির রেলপথ— প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারত ও ফ্রান্স একসঙ্গে এগিয়ে যাবে।”
ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে ভারত বিশ্বের একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন হোক বা যুক্তরাজ্য, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল ও দেশের সঙ্গে ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করছে। তিনি জানান, আগামী মাস থেকে কার্যকর হতে চলা ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি কৃষক, শ্রমিক এবং উদ্ভাবকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত G7 Summit-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে তিনি বিশ্বাসভিত্তিক অংশীদারিত্ব এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করেছেন। নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য, “জি-৭ সম্মেলনে ভারতের বার্তা ছিল স্পষ্ট— বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা তখনই কার্যকর হবে যখন তা হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক; বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি তখনই টেকসই হবে যখন তার সুফল সকলের মধ্যে ভাগাভাগি হবে; এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি তখনই মানবতার কল্যাণে কাজে লাগবে যখন তার উপর মানুষের আস্থা থাকবে।”
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক ভূমিকা, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং বিশ্বমঞ্চে আস্থাভিত্তিক সহযোগিতার গুরুত্ব। তাঁর মতে, বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় ভারত শুধু ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে না, বরং সেই ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
Kolkata,West Bengal
