অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ?
বৈঠক চলাকালীন গুঞ্জন ওঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘শাস্তিমূলক’ পদক্ষেপ করতে চলেছে নয়া তৃণমূল৷ এ বিষয়ে নাকি বৈঠকে প্রস্তাবও পাশ হয়৷ উপস্থিত সকলে তৃণমূল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন অথবা বহিষ্কারের রেসোলিউশনে সইও করেন৷
বৈঠক শেষে অরূপ রায়দের সঙ্গে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় যে সাংবাদিক বৈঠক করেন, সেখানে তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘পদক্ষেপ জল্পনা’ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়৷ সেই প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত বলেন, ‘‘চার্টাড ফ্লাইটে চড়ে আরাম না করে। সেই টাকা কর্মীদের জামিন করালে ভালো হত। অনেকে বাড়ির গহনা বিক্রি করছেন।…দেশের আইন আছে। সংবিধান মেনে চলতে হয়। একটা নিয়ম আছে। আমরা যা করেছি নিয়ম মেনে। যা করা হয়েছে নিশ্চিদ্র ভাবে করা হয়েছে…..অভিষেক নিয়ে আলোচনা হয়নি। তাহলে বহিষ্কার হল কী করে?’’
কটাক্ষের সুরে ঋতব্রত বলেন, ‘‘কে অভিষেক? যাকে পাবলিক চোর পিটুনি দিয়েছিল? অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে নিয়ে আজ কোনও আলোচনা বৈঠকে হয়নি৷’’
সোমবার বিধানসভায় বাজ পেশ হওয়ার পর পরই ঋতব্রত-সন্দীপন-ফিরহাদেরা চলে যান নিউটাউনের ধারে থাকা একটি পাঁচ তারা হোটেলে৷ সেখানেই হয় বৈঠক৷ সূত্রের খবর, এদিনের তৃণমূলের এই মিটিংয়ে রাখা হয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও ছবি৷ ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধি, বি আর অম্বেদকরের ছবি৷ তৃণমূলের যাঁরা বিক্ষুব্ধ বিধায়ক তাঁরা সকলে একত্রিত হন এখানে। হোটেলের ভিতরে একের পর এক গাড়ি নিয়ে ঢুকতে দেখা যায় একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী সাথীদের।
এদিনের বৈঠকে ছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সন্দীপন সাহা, রথীন ঘোষ, অরূপ রায়, জাভেদ খান, ফিরহাদ হাকিমেরা৷
এছাড়াও, পর্দা ফেলা ছোট বাসে করে অনেকে যোগ দেন এই বৈঠকে৷ বাসে যাঁরা ঢুকেছেন তাঁরা কাউন্সিলর ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। প্রিন্সেপ ঘাট থেকে এই বাস ছাড়া হয়। তাঁরা সবাই তৃণমূলের কাউন্সিলর, বিশেষ করে কলকাতা পুরসভার৷ এদিনের বৈঠকে এসেছিলেন দেবাশিস কুমারও৷ ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে৷
শুধু তাই নয়, নতুন পার্টি অফিসও নিয়েছে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল৷ বালিগঞ্জে জায়গা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জাভেদ খানকে এর জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর৷
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের তরফে জানানো হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে তাঁণরা আইনি লড়াই চালাবেন। লোগো এবং সম্পত্তির বিষয়টি আইনজীবীরা দেখছেন। দিল্লি থেকে বিশেষ আইনজীবী দলের সঙ্গে আলোচনা করছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিনের বৈঠকে সেই আইনজীবীরা উপস্থিতও ছিলেন৷