Last Updated:
ধর্ষণের মতো অপরাধ মিটমাট করে মেটানো যায়, এমনটাই পর্যবেক্ষণ করে অভিযুক্তের জামিন খারিজ করল আদালত। সেই সঙ্গে অভিযোগকারিণীর জমা দেওয়া সমঝোতার হলফনামাও বিবেচনা করতে অস্বীকার করেছে ওই আদালত।
থানে: মহারাষ্ট্রের থানে জেলার একটি আদালত এক মডেলকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারিণীর জমা দেওয়া সমঝোতার হলফনামাও বিবেচনা করতে অস্বীকার করেছে আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ধর্ষণে কোনও মিটমাট বা আপস করা যায় না (নন-কম্পাউন্ডেবল) অপরাধ, ফলে ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে এ ধরনের মামলার নিষ্পত্তি করা যায় না।
অতিরিক্ত সেশনস বিচারক পি ভি ঘুলে গত ৯ জুন এই নির্দেশ দেন। আদেশের কপি ১৫ জুন প্রকাশ্যে আসে। অভিযুক্ত অক্ষয় কুমার কান্তিলাল জৈনকে গত ২৫ এপ্রিল গ্রেফতার করে কাশিমিরা পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৬৪ ধারা (ধর্ষণ) এবং ৩৫১(২) ধারা (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাঞ্জাবের ২৬ বছর বয়সি এক পেশাদার মডেল দাবি করেন, অভিনয়ের অডিশনের প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত তাঁকে গোয়া থেকে মীরা রোডের একটি হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর চায়ে মাদক মিশিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ।
জামিন শুনানির সময় অভিযুক্তের আইনজীবী অভিযোগকারিণীর দেওয়া একটি হলফনামার উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। হলফনামায় বলা হয়, তাঁর বিয়ে ঠিক হয়েছে এবং মামলাটি চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ দাম্পত্য জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সরকারি পক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে জানায়, এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ এবং আইন অনুযায়ী ধর্ষণ মামলা আপসযোগ্য নয়। অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনীষা পসে আদালতে বলেন, “তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তাই এই পর্যায়ে অভিযুক্তকে কোনও রকম স্বস্তি দেওয়া উচিত নয়”।
জামিনের আবেদন খারিজ করে আদালত জানায়, আসন্ন বিয়ে নিয়ে অভিযোগকারিণীর উদ্বেগ ধর্ষণের অভিযোগ প্রত্যাহারের বৈধ কারণ হতে পারে না। আদালত পর্যবেক্ষণে বলে, “বিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার যে কারণ দেখানো হয়েছে, তা প্রাসঙ্গিক নয়। এই ধরনের অপরাধ সমাজের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ। ফলে এখানে কোনও আপসের সুযোগ নেই।”
বিচারক আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগকারিণীর নিজের হলফনামাতেও স্পষ্ট যে মীরা রোডের হোটেলে তাঁর সম্মতি ছাড়া শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছিল। আদালতের বক্তব্য, “হোটেলে থাকাকালীন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তিনি কখনও সম্মতি দেননি। এই অপরাধ আপসযোগ্য নয়।”
আদালত আরও জানায়, মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং চার্জশিটও জমা পড়েনি। একদিকে ফৌজদারি মামলা শুরু করা এবং অন্য দিকে ব্যক্তিগত সমঝোতার ভিত্তিতে এফআইআর প্রত্যাহারের আবেদন করা— এই দুই অবস্থান একসঙ্গে গ্রহণ করা যায় না। আদালতের পর্যবেক্ষণ এই ধরনের অপরাধকে সমাজের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে দেখা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে এর নিষ্পত্তি সম্ভব নয়।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
