পুলিশের কাছে সিয়া গয়াল নাকি স্বীকার করেছেন যে, চেতনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের পথে কেতনকে তিনি বাধা হিসেবে দেখতেন। সেই কারণেই দু’জনে মিলে কেতনকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে অভিযোগ। তবে সিয়া গয়াল পুলিশকে জানালেও যে তিনি বিয়ে নিয়ে নিজের অনীহার কথা পরিবারকে বলেছিলেন ৷ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট কিন্তু অন্য ছবি তুলে ধরেছে।
সিয়া গয়ালের সোশ্যাল মিডিয়ায় কী দেখা গিয়েছে?
ইনস্টাগ্রামে সিয়া গয়াল অত্যন্ত অ্যাকটিভ ছিলেন এবং নিয়মিত কেতনের সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করতেন, যাতে তাদের সম্পর্ককে সুখী ও ভালবাসাপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়।
প্রথমে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কেতনের সঙ্গে নিজের বাগদানের ঘোষণা দিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন।
এরপর মার্চ মাসে তিনি একটি মোমবাতি-সজ্জিত কেকের ছবি পোস্ট করে কেতনকে ট্যাগ করেন। সেই পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “যেদিন আমার হৃদয় তার ঠিকানা খুঁজে পেল, তার এক মাস পূর্তির জন্য শুভেচ্ছা।”
এছাড়াও, সিয়ার একাধিক পোস্টে বাগদানের রাতের বিভিন্ন ছবি দেখা যায়। তিনি নিজের বাগদানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন।
১৮ জুন কেতনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর সিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি শোকবার্তা পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আমার জন্মদিনেই আমাকে ছেড়ে চলে গেলে।”
পোস্টে আরও লেখা ছিল, “আমাদের বিয়ে হতে আর খুব বেশি দেরি ছিল না, অথচ তুমি চলে গেলে। তুমি আমার সঙ্গে এমন করলে কেন, আমি এখনও বুঝতে পারছি না। আমার অনেক স্বপ্ন ছিল, অনেক প্রশ্ন ছিল, যার উত্তর আমি আর কখনও পাব না। আমি তোমাকে এত ভালবাসতাম, তাহলে কেন আমাকে ছেড়ে চলে গেলে? শান্তিতে বিশ্রাম নাও।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের শোক আরও প্রকাশ করতে সিয়া কেতনের একটি ভিডিও ক্লিপও শেয়ার করেন। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি গাড়ির সামনের সিটে বসে কেতন পিছন ফিরে কারও সঙ্গে কথা বলছেন। সেই ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “মেরে দিল কো পতা হ্যায় কি তু ইয়াহি হ্যায়, ওয়াপাস আ যা” (আমার হৃদয় জানে তুমি এখানেই আছ, ফিরে এসো)।
কীভাবে প্রকাশ্যে এল অপরাধের ঘটনা?
১৮ জুন সিয়া পুলিশকে ফোন করে জানান যে, প্রবল বাতাসের মধ্যে লোনাভালার কাছে লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়ে ছবি তোলার সময় তাঁর বাগদত্তা কেতন দুর্গের খাদে পড়ে গিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটির তদন্ত একটি ট্রেকিং দুর্ঘটনা হিসেবেই শুরু হয়েছিল। তবে তদন্তের সময় পুলিশ সিয়ার বর্ণনার সঙ্গে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতির একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এছাড়াও, সিসিটিভি ফুটেজে ওই এলাকায় একটি হুডি ও শর্টস পরা ব্যক্তিকে দেখা যায়, যদিও তার মুখ ঢাকা ছিল। পুলিশ বিভিন্ন প্রমাণ ও তথ্য একত্রিত করে ২৩ জুন হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে।
এরপর সিয়া গয়াল এবং তাঁর কথিত প্রেমিক চেতন চৌধুরীর বিরুদ্ধে কেতনকে হত্যার পরিকল্পনা ও তা কার্যকর করার অভিযোগ আনা হয় এবং দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১০৩ নম্বর ধারা (খুন) এবং ৬১ নম্বর ধারা (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র)-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্ত প্রেমিক চেতনকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তাঁরা দু’জনে পালিয়ে না গিয়ে কেন কেতনকে খুনের রাস্তা বেছে নিলেন? কেন সিয়া তাঁর বাগ্দান অনুষ্ঠান বাতিল করলেন না? জেরায় চেতন দাবি করেন, পরিবারের অসম্মানের ভয়ে কেতনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন সিয়া। তাই বাগ্দান অনুষ্ঠান বাতিল করতে চাননি। পরিবারের সম্মান হারানোর ভয়, অন্য দিকে, চেতনের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা— এই দুইয়ের টানাপড়েন চলছিল সিয়ার মধ্যে। চেতনের দাবি, তাই সিয়া তাঁর সঙ্গে পালাতে চাননি। তাঁদের সম্পর্কের মাঝে কেতন বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন বলে তাঁকেই সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।