নয়াদিল্লি: পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয় বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাসপোর্টকে শুধুমাত্র ‘ভ্রমণের নথি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে এই ঘোষণা হতেই নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, পৃথিবীর সর্বত্র নাগরিকত্বের দলিল হিসেবে গৃহীত হয় পাসপোর্ট। ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের নাম বহন করে সেটি। পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র না হলে, নাগরিকত্রে প্রমাণপত্র কোনটি? সেই নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে নাগরিকত্বের প্রশ্নে দেশের আইনকে তুলে ধরছেন অনেকে। (Passport Not Citizenship Proof)
পাসপোর্ট সেবা দিবসে গতকাল বিদেশমন্ত্রকের তরফে ওই ঘোষণা হয়। ওই ঘোষণা হতেই কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে যায়। পাসপোর্ট যদি নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র না হয়, তাহলে এত নথিপত্র চাওয়া হয় কেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয় কেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন বা ফি দিতে হয় কেন-এমন একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে। তবে এর উত্তর নিহিত রয়েছে দেশের আইনি কাঠামোতেই। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫ ও ১১ এবং ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে ভারতীয় নাগরিকের সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দু’টির কোনওটিতেই নাগরিকত্বের নথি হিসেবে কিছু চিহ্নিত করা নেই। (Indian Passport and Citizenship)
ভারতের নাগরিক কারা?
জন্ম, বংশপরিচয়, স্থায়ী বাসস্থানের মতো বিষয়ের উপর ভারতীয়দের নাগরিকত্ব স্বীকৃত হয়। বিভিন্ন নথি সেগুলির প্রমাণপত্রের ভূমিকা পালন করে। ভারতে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ভর করে তাঁর জন্মের সময়কাল, কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের মা-বাবার নাগরিকত্বের উপরও। আইনি শর্তাবলী পূরণ করতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভারতের স্বাভাবিক নাগরিকের মর্যাদা পান।
আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ভোটার পরিচয়পত্র, প্যান কার্জ বা জন্মের শংসাপত্র নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র কি না, এই প্রশ্ন আগেই উঠেছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের সংসদে সেই নিয়ে জবাবদিহি করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, যেখানে বলা হয়, “ভারতের নাগরিত্ব অর্জনের বিষয়টি ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। জন্ম বা বংশ পরিচয়, নথিভুক্তিকরণ বা স্বাভাবিক পদ্ধতিতে, অথবা কোনও ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্তির মাধ্য়মে ভারতের নাগরিকত্ব অর্জন সম্ভব। নাগরিকত্ব অর্জন এবং তা নির্ধারণও হয় ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন দ্বারা।”
আরও পড়ুন: পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, নয়া ঘোষণা কেন্দ্রীয় সরকারের, তাহলে নাগরিক কারা? উঠছে প্রশ্ন
নাগরিকত্ব নির্ধারণের উপায় কী?
তবে শুধুমাত্র ভারতের নাগরিকরাই ভারতের পাসপোর্ট পেতে পারেন। সেই পাসপোর্ট বিদেশে স্বীকৃত, ওই পাসপোর্টের অধিকারী ভারতীয় হিসেবেই গণ্য হন। কিন্তু নাগরিকত্বের প্রশ্নকে জটিল করে তুলেছে পাসপোর্ট আইনই। কারণ পাসপোর্ট আইনের ২০ নং আইনে কেন্দ্রকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যিনি ভারতের নাগরিক নন, প্রয়োজন বুঝে, জনস্বার্থে তাঁকেও পাসপোর্ট দেওয়ার কথাও রয়েছে আইনে। ভূরাজনৈতিক কারণে কেউ রাষ্ট্রহীন হয়ে গেলে, ওই আইনের আওতায়ই পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। পাশাপাশি, বারতে আসার পর কেউ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়লে, বিদেশে পাড়ি দেওয়ার জন্যও পাসপোর্ট পেতে পারেন তিনি। ঐতিহাসিক ভাবে তিব্বত এবং শ্রীলঙ্কার তামিল শরণার্থীদের বিশেষ ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেওয়া হতো বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ২০২৩ সালে মাদ্রাজ হাইকোর্ট একজন শ্রীলঙ্কার তামিল শরণার্থীকে অনুচ্ছেদ ২০-র আওতায় পাসপোর্ট দিতে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রকে।
ব্রিটেন, আমেরিকার মতো পৃথিবীর তাবড় গণতান্ত্রিক দেশে পাসপোর্ট দেওয়ার অর্থই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব প্রমাণিত। অর্থাৎ পাসপোর্ট কাউকে দেশের নাগরিকে পরিণত করে না। তবে ওই সব দেশে সিভিল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম রয়েছে। স্বাভাবিক নাগরিক জন্য রয়েছে নাগরিকত্ব সনদ, যা নাগরিকত্বের মূল আইনি প্রমাণপত্র। প্রাক্তন বিদেশ সচিব নিরুপমা মেননের দাবি, আইনি সংক্রান্ত খুঁটিনাটি এবং মানুষের ধারণার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। ভারতে নাগরিকত্ব এবং পাসপোর্ট আইনের মধ্যে ফারাক রয়েছে যথেষ্ট। নিরুপমার বক্তব্য, ‘আপনি ভারতের নাগরিক বলে সরকার যখন নিশ্চিত হয়, তার পরই পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। তাই দৈনন্দিন জীবন এবং আন্তর্জাতিক সফরের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট জোরাল প্রমাণ। কিন্তু নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব আইনি মূল ভিত্তি হিসেবে কার্যকর থাকে। এক্ষেত্রে পাসপোর্ট এমন কোনও চূড়ান্ত নথি নয়, যা অন্য সব সাক্ষ্য-প্রমাণের ঊর্ধ্বে’।
The discussion sparked by a recent statement on Passport Seva Divas has generated more heat than light.
The Ministry of External Affairs stated that a passport is a travel document, not a document of citizenship. Legally, that is correct. A passport is issued under the Passports… https://t.co/fz8Ct3OqIj
— Nirupama Menon Rao 🇮🇳 (@NMenonRao) June 25, 2026
নাগরিকত্ব নিয়ে আদালতের বক্তব্য কী?
ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে বিহারের একটি মামলার শুনানি চলাকালীন গতবছর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ বলে, “বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া জরপরি। আমরা বার বার রায় দিয়েছি যে, তালিকায় ১১টি নথির উল্লেখ রয়েছে…কিন্তু পাসপোর্ট এবং জন্মের শংসাপত্র ছাড়া ১১টি নথির কোনওটিই নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য নয়।” আদালতের ওই রায়ে ধারণা জন্মায় যে, নির্বাচন কমিশনের গৃহীত অন্য নথির তুলনায় পাসপোর্ট এবং জন্মের শংসাপত্রের স্থান সবচেয়ে উপরে। কিন্তু নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলায় একাধিক বার পাসপোর্ট ছাড়া অন্য বিষয়গুলিও গুরুত্ব পেয়েছে আদালতে।
২০১৩ সালে বম্বে হাইকোর্ট বেআইনি অভিবাসী হিসেবে অভিযুক্ত চার জনকে আইনি সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করে। তাঁরা আধারকার্ড, পাসপোর্ট এবং জন্মের শংসাপত্র জমা করেছিলেন। পরে যদিও পাসপোর্ট বাতিল হয় তাঁদের। অভিযুক্তদের মা-বাবা ভারতীয় কি না, প্রশ্ন ওঠে আদালতে।সেই সময় আদালত জানায়, ভারতের নাগরিক নন, এমন ব্যক্তিদেরও পাসপোর্ট দেওয়া যেতে পারে। তাই শুধুমাত্র পাসপোর্ট থাকলেই, তা নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হবে না। ২০০৫ সালে সর্বানন্দ সোনোয়াল বনাম বারত সরকারের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, যিনি নাগরিকত্ব দাবি করছেন, নাগরিকত্ব প্রমাণের দায়ও তাঁর। ১৯৬২ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ বনাম আব্দুল কাদের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট পাসপোর্টকে জাতি-পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য করলেও, নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে জন্ম, স্থায়ী বাসস্থান, অভিবাসনের মতো মানদণ্ড যাচাই করে দেখা হয়।
আরও পড়ুন: জম্মু ও কাশ্মীরে সেনা-পুলিশ মুখোমুখি! থানায় হামলা, ভাঙচুর, অফিসারদের মারধরের অভিযোগ, দায়ের হল মামলা
নাগরিকত্বের একক নথির অভাব
ভারতের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বড় এই কারণে যে, অন্য দেশের মতো ভারত কোনও সার্বিক নাগরিক শংসাপত্র দেয় না নাগরিকদের। কিছু মুষ্টিমেয় মানুষদেরই নাগরিকত্ব শংসাপত্র দেওয়া হয়, যাঁরা ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। অধিকাংশ ভারতীই জন্মসূত্রে দেশের নাগরিক। নাগরিকত্বের শংসাপত্র নেই তাঁদের কাছে। ফলে ভারতের নাগরিকদের কোনও একক পরিচয়পত্র নেই। দশকের পর দশক ধরে ভোটার তালিকা, স্কুলের শংসাপত্র, জমির রেকর্ড, জন্মের শংসাপত্র, পাসপোর্ট এবং অন্য সরকারি নথি দেখেই নাগরিকত্ব নির্ণয় করা হয়েছে।
অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা NRC-র সূচনা যখন ঘটে, সেই সময় নাগরিকত্বের প্রামাণ্য নথি হাতে আসার সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়। অটলবিহারি বাজপেয়ীর আমলে নথিভুক্তিকরণের মাধ্যমে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত পরিচয়পত্র প্রদানের কাঠামোটি গড়ে তোলা হয়েছিল। UPA আমলে সেই আলোচনা আরও গুরুত্ব পায়। নাগরিকদের পরিচয় যাচাই নিয়ে তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং UIDAI-এর মধ্যে সংঘাত দেখা দেয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রাক্তন সচিব তথা নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজকুমার সিংহের দাবি ছিল, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে না বলে যুক্তি দিয়েছিলেন তাঁরা। কারণ সেক্ষেত্রে অনুপ্রবেশকারীরাও নথি হাতে পেয়ে যাবে বলে আশঙ্কা ছিল তাঁদের। সেই তুলনায় পাসপোর্ট অনেক বেশি নিরাপদ। NRC-র সপক্ষে সওয়াল করে রাজকুমার। কিন্তু গোটা দেশে NRC-ও করা যায়নি। অসমে যাও বা হয়েছিল, তার নিটফল শূন্যই থেকে গিয়েছে। তাই প্রাক্তন বিদেশ সচিব নিরুপমার মতে, সিভিল রেজিস্ট্রেশন, শিশুর জন্মের নথিভুক্তিকরণের মাধ্যমে আর্কাইভ গড়ে তোলা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকবে।
পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব, প্রশ্ন একাধিক, উত্তর অধরা
তবে নানা পরামর্শ এবং সুপারিশ উঠে এলেও, পাসপোর্ট নিয়ে কেন্দ্রের ঘোষণায় নাগরিকত্বের প্রশ্নে নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এক্ষেত্রে কিছু প্রশ্ন এড়ানোও সম্ভব হচ্ছে না, যেমন-
১) পাসপোর্ট যদি নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র না হয়, তাহলে অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের পর ভারতের পাসপোর্ট কেন সারেন্ডার করতে হবে?সেক্ষেত্রে কেন দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্ন উঠবে? নিয়ম লঙ্ঘনে মোটা টাকা জরিমানাই বা কেন দিতে হয়? পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ না হলে, সেটি ফেরত নেওয়ার প্রয়োজন কী? কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা সলমন খুরশিদ বলেন, “পাসপোর্ট আইনে পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের নথি বলা হয়নি ঠিকই। কিন্তু বলা হয়েছে, ভারতের নাগরিক না হলে পাসপোর্ট মিলবে না।”
২) পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। ঠিকানা ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির। পাসপোর্ট পেতে রীতিমতো কালঘাম ছুটে যায়। পাসপোর্ট যদি শুধুমাত্র ট্রাভেল ডকুমেন্ট হয়, তাহলে এত দৌড়ঝাঁপ, নিয়মের গেরো কেন? AIMIM সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসির প্রশ্ন, “শুধুমাত্র ভারতের নাগরিকদের পাসপোর্ট দেওয়া হয়। এখন এসব বলা হচ্ছে। মানুষ এই পরিস্থিতিতে কী করবেন? জন্মের শংসাপত্র, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, কিছুই যথেষ্ট নয়। তাহলে প্রমাণপত্রের মাপকাঠি কী? স্পষ্ট উত্তর দিতে হবে। ”
৩) অন্য দেশ থেকে কেউ ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে পাসপোর্ট পান তিনি। বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্য দেশের নাগরিককে যখন পাসপোর্ট দেওয়া হয়, সেটা কী হিসেবে দেওয়া হয়, নাগরিকত্বের দলিল হিসেবে, নাকি ট্রাভেল ডকুমেন্ট হিসেবে? উদ্ধব-শিবসেনার নেতা আদিত্য ঠাকরে বলেন, “তাহলে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কী প্রয়োজন? অ-ভারতীয়দেরও কি পাসপোর্ট দেয় আমাদের দেশ? এতে কি অন্য দেশগুলিও বিভ্রান্ত হবে না যে অ-ভারতীয়রাও ট্রাভেল ডকুমেন্ট পেয়ে যাচ্ছে?”
৪) আধার কার্ড বা প্যানকার্ড নয়, পাসপোর্ট ভারত সরকারের সম্পত্তি হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ পৃথিবীর সর্বত্র ভারতীয় পাসপোর্ট দেশের সরকারের হয়েই প্রতিনিধিত্ব করে। সেক্ষেত্রে সেটি শুধুমাত্র ট্রাভেল ডকুমেন্ট হয় কী করে? উদ্ধব-শিবসেনার নেতা আদিত্য ঠাকরে বলেন, “পাসপোর্ট যদি নাগরিকত্বের প্রমাণ না হ.য়, তাহলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর থাকে কেন, ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের চিহ্ন বহন করে কেন? আমার মনে হয় বিদেশমন্ত্রক বিভ্রান্ত। এতে প্রবাসীরাও বিভ্রান্ত হবেন।”
৫) পাসপোর্ট যদি নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র না হয়, তাহলে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র কী? রাজ্যসভার সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বলও এই প্রশ্ন তুলেছেন। ১৪০ কোটি ভারতীয়র কাছে নাগরিকত্বের কোনও একক পরিচয়পত্র নেই। যে নাগরিকত্ব আইনের কথা বলা হচ্ছে, তা চারবার সংশোধন করা হয়েছে। সবদিক যাচাই করে শুধুমাত্র নাগরিকদেরই পাসপোর্ট দেওয়া হয়। তাহলে কি পাসপোর্টের অধিকারী ব্যক্তি দেশের নাগরিক নন? এখনও পর্যন্ত এর উত্তর মেলেনি। NCP (SP)-র মুখপাত্র ক্লাইড ক্রাস্তো বলেন, “আগে বলা হয়েছিল, আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, ভোটার কার্ডও নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, অন্যান্য নথিও নয়। তাহলে ভারতের নাগরিক হওয়ার প্রমাণপত্র কী? সরকারকে বলতে হবে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার নিজেদের মতো করে শর্ত চাপিয়ে দিয়ে আসছে। অবাক হব না, কাল যদি বলে নাগরিকত্ব প্রমাণে বিজেপি-র সদস্য হতে হবে।”
Taratala News: তারাতলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেখতে SSKM-এ স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত