Last Updated:
Pune Court: মাত্র ৩ বছর বয়সের শিশুকন্যাকে প্রলোভন দেখিয়ে গোয়ালঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে বৃদ্ধ বলেই অভিযোগ৷ এরপর পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে শিশুকে হত্যার অভিযোগ ওঠে ৬৫ বছরের ভিমরাওয়ের বিরুদ্ধে৷
পুণে: ৩ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগ৷ পুণের ঘটনায় ৬৫ বছরের অভিযুক্ত প্রৌঢ়কে ফাঁসির সাজা শোনাল পুণের আদালত৷ এই নৃশংস কাণ্ডকে বিচারক এস. আর. সালুঙ্খে এই মামলাকে “বিরলের মধ্যে বিরলতম” (Rarest of the Rare) ঘটনা হিসেবেও উল্লেখ্য করে আদালত৷ সোমবার অভিযুক্তকে ভিমরাও কাম্বলের ফাঁসির সাজা ঘোষণা করে আদালত৷ অভিযুক্তকে ভিমরাও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় দোষী প্রমাণিত হয়েছেন৷ পাশাপাশি পকসো-আইনের আওয়াতেও দোষী প্রমাণিত ভিমরাও৷
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক প্রমাণ আদালতে পেশ করেন আইনজীবী৷ রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, অপরাধের নৃশংসতা, উদ্দেশ্য এবং অভিযুক্তের অতীত অপরাধমূলক ইতিহাস বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডই উপযুক্ত শাস্তি। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং অতীতেও তার বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নির্যাতনের মামলা ছিল। পুণের আদালত গত ২৫ জুন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১ মে ২০২৬-এ অপরাধ সংঘটিত হওয়ার মাত্র ৬০ দিনের মধ্যেই মামলার বিচার শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে বিচারক আরও বলেন, “অপরাধটি অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক। নিরীহ ও অসহায় এক শিশুকে যৌন লালসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়েছে, যা অভিযুক্তের চরম নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয় দেয়। এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত, উসকানিবিহীন এবং ঠান্ডা মাথায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড। এই নৃশংসতা শুধু আদালতের বিবেক নয়, গোটা সমাজের বিবেককেও নাড়া দেয়।” আদালত আরও জানায়, মামলায় অভিযুক্তের পক্ষে যেতে পারে এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷
সরকারি অ্যাডভোকেট অজয় মিসার জানান, তদন্ত থেকে বিচার পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়ায় অপরাধের গুরুত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “প্রসিকিউশন সমস্ত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) অধীনে আনা সব অভিযোগে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।”
ঘটনাটি ঘটে ১ মে, ২০২৬-এ মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার ভোর তহসিলের নাসরাপুর গ্রামে। অভিযোগ, ৬৫ বছর বয়সি ভীমরাও কাম্বলে তিন বছরের শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর পাথর দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরে মৃতদেহটি সেই গোয়ালঘরেই লুকিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের দীর্ঘ অপরাধমূলক অতীত রয়েছে। পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপার সন্দীপ সিং গিলের কথায়, ১৯৯৮ এবং ২০১৫ সালেও কাম্বলের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের হয়েছিল। ফলে তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই যৌন অপরাধের রেকর্ড ছিল।
Kolkata,West Bengal
