Last Updated:
একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা সুশীলা এর পর হার্ট অ্যাটাকে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে নিজের কীর্তি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে৷
সোমবার সকাল থেকে বার বার ফোন করেও ৫০ বছর বয়সি নিত্যানন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না কেউ৷ আত্মীয় পরিজনরা ভেবেছিলেন, নিত্যানন্দ হয়তো সত্যিই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন৷
শেষ পর্যন্ত নিত্যানন্দের স্ত্রী সুশীলা তাঁর দাদাকে ফোন করে জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন নিত্যানন্দ৷ খবর পেয়ে নিত্যানন্দের বাড়িতে পৌঁছতেই সন্দেহ উঁকি দেয় তাঁর দাদার মনে৷ আর সেই সন্দেহেরই জেরেই শেষ পর্যন্ত ফাঁস হল আসল সত্যিটা৷ জানা গেল, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নয়, বরং ঘুমন্ত নিত্যানন্দকে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করেছেন তাঁর স্ত্রীই!
শিউরে ওঠার মতো এই ঘটনা ঘটেছে কর্ণাটকের মাইসুরুতে৷ নিত্যানন্দর দাদা যখন খবর পেয়ে মাইসুরুর কুভেমপুনগরের বাড়িতে পৌঁছন, ততক্ষণে নিত্যানন্দের মৃত্যু হয়েছে৷ কিন্তু ভাইয়ের গলার কাছে ক্ষতচিহ্ন দেখেই সন্দেহ হয় নিত্যানন্দের দাদার৷ নিত্যানন্দের স্ত্রীর কথায় অসংলগ্নতা ধরা পড়ায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন নিত্যানন্দের দাদা এবং পরিবারের বাকি সদস্যরা৷
পুলিশ জানিয়েছে, নিত্যানন্দ একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করতেন৷ রবিবার রাতে দেরি করে বাড়ি ফেরেন তিনি৷ মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে ঘুমে বেহুঁশ হয়ে পড়েন নিত্যানন্দ৷ সেই সুযোগেই স্বামীর গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে খুন করে নিত্যানন্দের স্ত্রী সুশীলা৷
তদন্তকারীদের দাবি, খুনের পর স্বামীর দেহ নিয়ে সোমবার সকালবেলা বাড়ির ভিতরেই ছিল সুশীলা৷ নিত্যানন্দের এক বন্ধু এসেও তাঁকে ডাকাডাকি করে না পেয়ে ফিরে যান৷ শেষ পর্যন্ত বেলার দিকে সুশীলা নিত্যানন্দের দাদাকে ফোন করে স্বামীর মৃত্যুর খবর দেয়৷
সুশীলার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷ প্রাথমিক জেরার পর স্বামীকে খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছে স্ত্রী৷ পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ, সন্তানহীনতার হতাশা, আর্থিক অস্বচ্ছলতার মতো কারণের জেরেই সম্ভবত স্বামীকে খুন করেছে সুশীলা৷ যদিও খুনের প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে অভিযুক্ত স্ত্রীকে জেরা করছে পুলিশ৷
Kolkata,West Bengal
