Last Updated:
খুন, আত্মহত্যা না কি বিষক্রিয়ায় সুরভির মৃত্যু হল, তা তদন্ত করে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ৷ কীভাবে সুরভির মৃত্যু হল তা জানতে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে৷
পরিবারের অমতে নিজের প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন৷ শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তের চরম মাশুল দিতে হলে বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সি তরুণী ফিজিওথেরাপিস্টকে৷ কর্ণাটকের চিক্কাবল্লাপুর জেলার একটি হোম স্টে-র ঘরের ভিতরে ওই তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ পাশেই সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়েছিলেন তরুণীর প্রেমিক৷
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে মাদক সেবনের কারণেই সম্ভবত মৃত্যু ২৬ বছর বয়সি সুরভির৷ কেরলের বাসিন্দা মহম্মদ সাঁজিত আলি নামে এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাঁর৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাঁজিত আলি নামে এই যুবক মাঝেমধ্যেই ওই তরুণীকে মারধর করত৷ তরণীর গোপনাঙ্গেও সে আঘাত করত বলে অভিযোগ৷
তবে প্রেমিক এত অত্যাচার করলেও সুরভি ওই যুবককেই বিয়ে করতে চান বলে পরিবারকে জানিয়েছিলেন৷ যদিও সুরভির এই সিদ্ধান্তে রাজি হয়নি তাঁর পরিবার৷ শেষ পর্যন্ত সাঁজিত আলি নামে ওই যুবকের সঙ্গে বাড়ি ছাড়েন সুরভি৷ ওই তরুণীর পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে মিসিং ডায়েরিও করে৷ যদিও সুরভি কিছুদিন পর বাড়ি ফিরে জানান, প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে তাঁর৷
ইন্ডিয়া টুডে-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পর সুরভি এবং তাঁর প্রেমিক একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন৷ সেই সময়ই সাঁজিত সুরভিকে মাদক দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ৷ যার ফলে মদ এবং মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছিল সুরভি৷
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে সুরভি এবং তাঁর প্রেমিক সাঁজিত আলির উপস্থিতিতে একটি পার্টিতে হানা দিয়ে প্রচুর পরিমাণে মাদক উদ্ধার করে পুলিশ৷ যার জেরে দুজনের বিরুদ্ধেই এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু হয়৷
এই ঘটনার পর সুরভিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে তাঁর পরিবার৷ মাদকাসক্তি কাটাতে প্রায় ৬ মাস বেঙ্গালুরুর একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয় সুরভিকে৷ সেখান থেকে ফিরে বেঙ্গালুরুতে নিজের মায়ের লঙ্গেই থাকতে শুরু করেন তিনি৷
অভিযোগ, বেশ কিছুদিন পর আবারও সাঁজিতের সঙ্গে যোগাযোগ হয় সুরভির৷ মারধর, মাদক সেবনের মতো ঘটনার পরেও সুরভি কেন সাঁজিতের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ করল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷
পুলিশের দাবি, চিক্কাবল্লাপুরে সাই-এর ক্যাম্পাসে স্বেচ্ছাসেবক হয়ে এসেছিলেন সুরভি৷ সেই খবর জানতে পেরে চিক্কাবল্লাপুরে পৌঁছে যায় সাঁজিত৷ একটি হোমস্টে-তে ঘর বুক করে সে৷ সেই হোমস্টের ঘরেই তিন দিন একসঙ্গে ছিলেন দু জনে৷ তার পরই ঘরের ভিতর থেকে সুরভির দেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷
চিক্কাবল্লাপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সুরভির দেহে বাইরে থেকে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না৷ ঘরের ভিতর থেকে বিপুল সংখ্যক ট্যাবলেট, একটি দড়ি পাওয়া গিয়েছে৷ ঘরের ভিতরে বমি করার প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ৷ একটি বালিশও ঘটনাস্থল থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷
Kolkata,West Bengal
