মাত্র ৩৩ বছর বয়সী মৃত নাবিকের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার৷ রাকেশ চৌহানের পরিবার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছে৷ FSUI তাদের এক্স (X) পোস্টে জানিয়েছে, রাকেশ চৌহানের মরদেহ ভেনেজুয়েলা থেকে ভারতে পাঠান হলেও তার সঙ্গে কোনও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বা মৃত্যুর কারণ সংক্রান্ত সরকারি নথি দেওয়া হয়নি।য
সংগঠনের দাবি, ভারতে পুনরায় ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, রাকেশের দেহে মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, দুই ফুসফুস, যকৃত, কিডনি, প্লীহা, অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী, অন্ত্র, থাইরয়েড, হাইয়য়েড হাড়, ল্যারিংস ও ট্র্যাকিয়া—সবই অনুপস্থিত ছিল।
এছাড়া দেহে গলা থেকে তলপেট পর্যন্ত ২২টি সেলাই এবং এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত ২১টি সেলাইয়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রায় এক মাস মরদেহটি ডিপ ফ্রিজে রাখা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সমস্ত অভ্যন্তরীণ অঙ্গ না থাকায় চিকিৎসকেরা মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করতে পারেননি।
রাকেশ চৌহানের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার লাগদা বাজার টোলা এলাকায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি একটি মার্চেন্ট নেভির জাহাজে কর্মরত অবস্থায় ভেনেজুয়েলায় যান। পরিবারের দাবি, তাঁকে এক্সফিনিটি (Xfinity) নামে একটি সংস্থা ওই জাহাজে পাঠিয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে সংস্থা জানায় যে রাকেশ জাহাজে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরদিন সকালে জানানো হয়, তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ৫ শতাংশ। একই দিন সন্ধ্যায় সংস্থা তাঁর মৃত্যুর খবর দেয়। মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
সংস্থা প্রথমে এক সপ্তাহের মধ্যে মরদেহ ফেরানোর আশ্বাস দিলেও, পরিবারের দাবি, প্রায় এক মাস পরে অর্থাৎ ৪ জুন রাকেশের মরদেহ দেওরিয়ায় পৌঁছায়।
রাকেশের বাবা রাম দেব চৌহান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। প্রথম ময়নাতদন্ত আগেই করা হয়েছিল। পরে জেলা শাসকের নির্দেশে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে দেখা যায়, দেহের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গই নেই এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা সরকারের কাছে কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই হৃদপিণ্ড, কিডনি, যকৃত বা পাকস্থলীর মতো অঙ্গ পরীক্ষার জন্য প্রথম ময়নাতদন্তে বের করা হয়। তবে সাধারণত পরীক্ষার রিপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট নথি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় বিতর্কের মূল কারণ হল, ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট সংস্থা কেউই রাকেশ চৌহানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরিবারের হাতে দেয়নি। ফলে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।