Last Updated:
সিবিআইয়ের অবজারভেশন-কাম-রিকভারি মেমো-তেও ওই আইপিএস কর্মকর্তার পরিচয় নথিভুক্ত করা হয়েছে। গেহলাওয়াত গ্রেফতার হওয়ার পর তদন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি কর্মকর্তা এবং মধ্যস্থতাকারীদের জড়িত থাকার অভিযোগে গড়ে ওঠা প্রভাব খাটানো (ইনফ্লুয়েন্স পেডলিং) ও দুর্নীতির একটি বৃহত্তর চক্রের সন্ধানে সিবিআই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
নয়াদিল্লি: চলমান একটি সিবিআই তদন্তকে প্রভাবিত করার অভিযোগে ৩ কোটি টাকার ঘুষের ষড়যন্ত্র মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) ২০১২ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা দীপক গেহলাওয়াতকে গ্রেফতার করেছে। তিনি বর্তমানে ব্যুরো অফ সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি (বিসিএএস)-এর দিল্লি অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিকর্তা (রিজিওনাল ডিরেক্টর) হিসেবে কর্মরত।
এই গ্রেফতারির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ১১ জুন, ২০২৬-এ CNN-News18 প্রথম এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। সেই প্রতিবেদনে অসামরিক বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিতরে কথিত দুর্নীতির চক্রের বিষয়টি সামনে আসে।
CNN-News18-এর হাতে আসা সিবিআইয়ের এফআইআর এবং আদালতের নথি অনুযায়ী, পুদুচেরির ব্যবসায়ী এন. রাজার কাছ থেকে সিবিআই তদন্তে অনুকূল ফল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই মামলার সূত্রপাত। তদন্তকারীদের দাবি, ওই আইপিএস কর্মকর্তা এন রাজা এবং মামলার অন্যান্য অভিযুক্তকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি সিবিআইয়ের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করতে পারবেন।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নয়াদিল্লির এরোসিটিতে অবস্থিত বিসিএএস-এর আঞ্চলিক অধিকর্তার দফতরে একাধিক বৈঠক হয়, যেখানে ৩ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, অগ্রিম হিসেবে দেড় কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, রাজা হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে ১ কোটি টাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। এই অর্থ প্রাক্তন ক্রাইম ব্রাঞ্চ ইনস্পেক্টর প্রদীপ কুমার সিং-এর কাছে এক হাওলা অপারেটরের মাধ্যমে পৌঁছায় বলে অভিযোগ। ওই টাকার মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা প্রভাত নামে এক মধ্যস্থতাকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়, যিনি ওই আইপিএস কর্মকর্তার পরিচিত বলে তদন্তকারীদের দাবি। বাকি ২৫ লক্ষ টাকা প্রদীপ সিংয়ের বাড়িতে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
৮ জুন, ২০২৬-এ সিবিআইয়ের পরিচালিত একটি ফাঁদ পাতা (ট্র্যাপ) অভিযানে প্রদীপ কুমার সিং এবং আরও এক অভিযুক্ত রাজকুমারের কাছ থেকে মোট ২৪.৭০ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়। এরপর সিবিআই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৭, ৭এ, ৮ এবং ১২ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩-এর ৫১(২) ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করে। ওই এফআইআরে গ্রেফতার হওয়া আইপিএস কর্মকর্তা-সহ ঘুষের এই কথিত চক্রের সঙ্গে যুক্ত একাধিক মধ্যস্থতাকারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৯ জুন, ২০২৬-এ বিশেষ বিচারক সুশান্ত চাংগোত্রা প্রদীপ কুমার সিং এবং রাজকুমারকে ১০ জুন পর্যন্ত এক দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন, মামলায় আরও কোনও সরকারি কর্মচারি জড়িত ছিলেন কি না তা শনাক্ত করা, অর্থ লেনদেনের সম্পূর্ণ গতিপথ (মানি ট্রেল) অনুসরণ করা, ঘুষের চূড়ান্ত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা, ডিজিটাল প্রমাণের মুখোমুখি করে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং আইপিএস কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও গুরুত্বপূর্ণ অপরাধমূলক প্রমাণ উদ্ধার করার জন্য পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
Kolkata,West Bengal
