এই ঘটনায় কেতনের পরিবারের সেই অভিযোগ আরও জোরাল হতে পারে যে, ফেব্রুয়ারিতে সিয়ার বাগদান হওয়ার পরও সিয়া ও চেতন প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন।
গত ২৩ মে রাত প্রায় ৯টা ৩০ মিনিটে ধারণ করা একটি ভিডিওতে সিয়া ও চেতনকে হাসিখুশি অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওতে সিয়াকে চেতনের হাত ধরে নিজের কাঁধে এনে আলিঙ্গনের মতো একটি ভঙ্গি করতে দেখা যায়।
ভিডিওটির সত্যতা এবং মামলার সঙ্গে এর প্রাসঙ্গিকতা বর্তমানে তদন্তকারীরা যাচাই করে দেখছেন। তবে তদন্তে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সিয়ার বাবা-মা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সিয়া ও চেতনের মধ্যে কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না; তাঁরা শুধুমাত্র বন্ধু ছিলেন।
গতকাল NewsDotz-কে সিয়ার মা পূজা গয়াল বলেন, ‘‘কেতনের সঙ্গে বাগদানের পর আমি কখনও দেখিনি যে সিয়া কেতনকে এড়িয়ে চলেছে, তাঁর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করেছে বা একসঙ্গে করা পরিকল্পনাগুলো উপেক্ষা করেছে। যদি সে চেতনের সঙ্গে সম্পর্কে থাকত, তাহলে তার আচরণে সেই লক্ষণ অবশ্যই দেখা যেত। গত চার মাসে আমি এমন কোনও লক্ষণ দেখিনি।’’
ইতিমধ্যেই সিয়া এবং চেতনের একাধিক ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এমনই একটি ছবি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে পূজা গয়াল জানান, সেটি তাঁদের এক বন্ধুর বিয়েতে তোলা হয়েছিল।
পূজা গয়াল বলেন, ‘‘আমি সকলকে বলতে চাই, যদি আমার মেয়ে দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে এই মামলার বিচার শেষ করে তাকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হোক।’’
কেতনের বাবা বিশাল দেবীচাঁদ আগরওয়াল দায়ের করা এফআইআরে অভিযোগ করা হয়েছে, চেতন চৌধুরী এবং সিয়া গোয়াল দু’জন মিলে তাঁর ছেলে কেতনকে একটি পাহাড়ি খাদের ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে হত্যা করেন।
এফআইআর অনুযায়ী, ১৮ জুন সকালে কেতন বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে পুণে-মুম্বই মহাসড়কের কিওয়ালে সেতু থেকে সিয়াকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গের উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সিয়া কেতনের মাকে ফোন করে দাবি করেন, লোহাগড় দুর্গে কেতন দুর্ঘটনাবশত একটি খাদে পড়ে গিয়েছেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ তাঁকে খাদ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, ২১ জুন কেতন আগরওয়ালের বাবা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁদের দাবি, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে তাঁদের মনে হয়েছে, সেখানে পা পিছলে দুর্ঘটনাবশত পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। কেতনের দুই বন্ধু নবদীপ জিন্দাল এবং তরুণ মিত্তল-ও পরিবারের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।