Last Updated:
ছত্তিশগড়ের বস্তারে প্রায় তিন বছর ধরে চলা ২ কোটি টাকার বেতন জালিয়াতি AI-নির্ভর অডিটে ধরা পড়েছে। ঘটনায় তিন পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেফতার করে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
ছত্তিশগড়: ছত্তিশগড়ের বস্তার জেলায় প্রায় ২ কোটি টাকার বেতন জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তিন পুলিশ কনস্টেবলকে। অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে ডিজিটাল বেতন সংক্রান্ত নথিতে কারচুপি করে তাঁরা নিজেদের বেতন বেআইনিভাবে বাড়িয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর বিশেষ অডিটেই সামনে আসে এই দুর্নীতির অভিযোগ।
ধৃতদের নাম গিরিশ রাই, রাজকুমার কাটলাম এবং হেমন্ত ম্যাথিউ। গিরিশ রাই জগদলপুরে পুলিশ সুপারের দফতরের বেতন শাখায় কর্মরত ছিলেন এবং বেতন বিল তৈরির দায়িত্বে ছিলেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি ডিজিটাল বেতন নথিতে পরিবর্তন করে নিজের পাশাপাশি বাকি দুই কনস্টেবলের বেতনও বাড়িয়ে দেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত এই জালিয়াতি চলেছে। এই সময়ে অভিযুক্তরা প্রায় ১.৫ কোটি থেকে ২ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীরা জানান, পুলিশ কর্মীদের বদলি, নতুন নিয়োগ এবং কর্মীসংখ্যার পরিবর্তনের কারণে বেতনের হিসাব নিয়মিত বদলাতে থাকায় দীর্ঘদিন এই অনিয়ম নজরে আসেনি। প্রতি মাসে তুলনামূলকভাবে অল্প অঙ্ক করে বেতন বাড়ানো হওয়ায় বিষয়টি ধরা পড়েনি।
সম্প্রতি প্রায় ২,০০০ পুলিশ কর্মীর বেতনের তথ্য AI-সহায়তায় বিশ্লেষণ করা হলে অসঙ্গতিগুলি ধরা পড়ে। বিপুল পরিমাণ তথ্য একসঙ্গে যাচাই করার সুবিধার জন্যই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বস্তারের পুলিশ সুপার শলভ কুমার সিনহা।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে তোলা হলে তিনজনকেই ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
Kolkata,West Bengal
