দুই পাতার এই বার্তার শিরোনাম, “তীর্থযাত্রীদের উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চিঠি”। সেখানে প্রধানমন্ত্রী “হর হর মহাদেব” এবং “জয় বাবা বরফানি” জানিয়ে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের অমরনাথ যাত্রা ভারতের সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “জম্মু ও কাশ্মীরের পবিত্র অমরনাথ যাত্রায় অংশ নেওয়া নিজেই এক মহান আশীর্বাদ।” তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তরা প্রতি বছর এই তীর্থযাত্রায় অংশ নেওয়ার সুযোগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন।
অমরনাথ যাত্রাকে ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের “এক চিরন্তন অধ্যায়” বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যাত্রা ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-র চেতনাকে বাস্তব রূপ দেয়। কারণ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তরা এই যাত্রায় একসূত্রে আবদ্ধ হন।
তিনি লিখেছেন, “বিভিন্ন রাজ্য, ভিন্ন ভাষা এবং নানা ধরনের ঐতিহ্যের অনুসারী মানুষ মহাদেবের প্রতি অগাধ ভক্তির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এই যাত্রা সম্পূর্ণ করেন।”
অমরনাথ যাত্রা নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শ্রী অমরনাথজি শ্রাইন বোর্ড, জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীগুলির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “গত কয়েক দশক ধরে শ্রী অমরনাথজি শ্রাইন বোর্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই তীর্থযাত্রার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে আসছে।”
এছাড়াও তিনি এই যাত্রা সফল করতে ভারতীয় সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, আইটিবিপি, বিএসএফ, এনডিআরএফ, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অবদানেরও প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “এ বছরও হাজার হাজার কর্মী নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।”
তীর্থযাত্রীদের জন্য পাঁচটি অঙ্গীকার:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তার মূল কেন্দ্রে রয়েছে অমরনাথ যাত্রায় অংশগ্রহণকারী ভক্তদের জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার গ্রহণের আহ্বান।
প্রথম অঙ্গীকারে তিনি তীর্থযাত্রীদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার এবং পুরো যাত্রাপথকে আবর্জনামুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
দ্বিতীয় অঙ্গীকারে ভক্তদের প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশ, ট্রাফিক নিয়ম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ কঠোরভাবে মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টি, পিচ্ছিল পথ এবং ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে বিশেষভাবে সতর্ক থাকারও আবেদন জানানো হয়েছে।
তৃতীয় অঙ্গীকারটি কেন্দ্র সরকারের ‘ভোকাল ফর লোকাল’ (Vocal for Local) উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। প্রধানমন্ত্রী ভক্তদের অনুরোধ করেছেন, তাঁরা যেন তাঁদের ভ্রমণ ব্যয়ের অন্তত ১০ শতাংশ জম্মু ও কাশ্মীরে তৈরি স্থানীয় পণ্য কেনার জন্য ব্যয় করেন, যাতে সেখানকার পরিবার এবং যুবসমাজের জীবিকা আরও শক্তিশালী হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা আমাদের ভ্রমণ ব্যয়ের অন্তত ১০ শতাংশ স্থানীয় পণ্য কেনার জন্য ব্যয় করব। এর মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিবার এবং যুবকদের জীবিকা আরও শক্তিশালী হবে।”
চতুর্থ অঙ্গীকারে তীর্থযাত্রীদের ‘এক পেড় মা কে নাম’ (Ek Ped Maa Ke Naam) অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বছরের অমরনাথ যাত্রা যেদিন শেষ হবে, সেদিনই রাখি বন্ধন উৎসব। সেই উপলক্ষে প্রত্যেককে নিজের ভাই বা বোনকে একটি গাছের চারা উপহার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
পঞ্চম অঙ্গীকারটি শুধু তীর্থযাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সারা বছর ধরে দেশের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার জন্যও ভক্তদের উৎসাহিত করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “‘দেশ সবার আগে’ এই চেতনায় আমরা সারা বছর সততার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করব এবং ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখব।”
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, এ বছরের অমরনাথ যাত্রা সনাতন ধর্মের প্রতি অটল বিশ্বাস, ভারতের সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং নিঃস্বার্থ সেবার ঐতিহ্যের এক মহৎ উৎসবে পরিণত হবে। পাশাপাশি তিনি সকল তীর্থযাত্রীর নিরাপদ ও আধ্যাত্মিকভাবে পরিপূর্ণ যাত্রার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “আমি প্রার্থনা করি, বাবা অমরনাথের অসীম আশীর্বাদ আমাদের সকলের উপর বর্ষিত হোক। আপনাদের তীর্থযাত্রা যেন নিরাপদ, শুভ এবং সফল হয়। এই যাত্রা আপনাদের জীবনে নতুন উদ্যম, নতুন চেতনা এবং আধ্যাত্মিক শক্তি এনে দিক।”