নজর বাঙালির মননে:
ভারতীয় জনসংঘের প্রয়াত সভাপতি পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় মনে করতেন, সংগঠনের বিস্তার শুধুমাত্র ক্ষমতা পাওয়ার জন্য নয়। সমাজে জাতীয় চেতনার জাগরণ ঘটানোর জন্য। এই আদর্শকে আপ্তবাক্য করেই বাংলার মাটিতে এগোতে চায় বিজেপি। এককালে জাতীয়তাবাদের পীঠস্থান বলা হত বাংলাকে। স্বাধীনতার পর বাংলার রাজনীতি হেঁটেছে অন্য পথে। উদ্বাস্তু সমস্যা, শ্রেণি সংগ্রাম এবং আন্দোলন।
এ রাজ্যে রাজনীতির রাজপথ গিয়েছে লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে। সেই সাতের দশক থেকে এই লড়াইয়ে গাঢ় হয়েছে লাল রং। বামপন্থী চিন্তাধারা। অনেকে বলেন, ৩৪ বছরের বাম শাসন বাঙালির ডিএনএ বদলে গিয়েছে। বামপন্থা বাঙালির চিন্তায়…ভাবনায়…মননে। অনেকে বলেন, ‘‘মার্কসবাদ যেন বাঙালির মাছ-ভাত। এবার বাঙালির মননে জায়গা করতে চায় বিজেপি। এই যাত্রাপথে পদ্ম শিবিরের মন্ত্র জাতীয়তাবাদ।’’
বাঙালির মননে বিজেপির নজর:
মণ্ডল স্তরের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে বিজেপি একটি বই প্রকাশ করেছে, সেখানে লেখা হয়েছে, সমাজের চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় চিন্তাধারাকে মানুষের জীবনের অংশ করে তোলাই লক্ষ্য। জাতির অবিরাম যাত্রাপথে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বলা হয়, এখানে বিজেপির ভোট আছে, কর্মী নেই। এবার সেই কর্মী-বাহিনীই তৈরি করতে চায় তারা। পদ্মের মূলত দুটি লক্ষ্য, প্রথমত, প্রতিটি বুথে সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা ৷ যে সমস্ত এলাকায় বিজেপি দুর্বল সেখানে বাড়তি নজর দেওয়া ৷ দ্বিতীয়ত, সমাজের সব স্তরে সংগঠনের ডালপালা ছড়িয়ে দেওয়া। এবং আরও বেশি করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছনো ৷
দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে বিজেপির স্বপ্নপূরণ হয়েছে। তাই, বদলের বাংলায় বিজেপি চায়, মানুষের প্রত্যাশাকে ভরসায় পরিণত করতে ৷ কর্মীদের প্রতি দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশ, সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকতে হবে ৷ আচরণ, ব্যবহার সংযত রাখতে হবে ৷ মানুষের কথা ধৈর্য ধরে শুনতে হবে ৷ বাঙালির সাংস্কৃতিক উদযাপনের শরিক হতে হবে ৷ প্রয়োজনে বিশিষ্টদেরও শামিল করতে হবে ৷
বিধায়ক এবং মন্ত্রীদের প্রতি দলের বার্তা, সরকারি কাজের পাশাপাশি দলের সংগঠনকে জোরদার করতেও সময় দিতে হবে। মণ্ডল, জেলা, রাজ্য…প্রতিটি স্তর অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে।
শ্যামপুকুরের বিজেপি বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তী জানান, ‘‘সংগঠনই সব…সোনার বাংলা গড়তে হবে ৷’’