Last Updated:
ICDS Worker Struggle Story: সহায়িকা নেই, নেই বিদ্যুৎ সংযোগও। তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে ১৩ বছর ধরে শিশুদের রান্না থেকে পড়াশোনা, সব একহাতে সামলে নজির গড়লেন ভাতাড়ের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সোনালী খাঁ। তবে এই কুর্নিশ জানানোর লড়াইয়ের মাঝেও থালা-বাসন ও পরিকাঠামোগত অভাব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভাতাড়, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: নেই কোনও রাঁধুনি (হেল্পার), নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। একাই রান্না, শিশুদের দেখভাল, পড়াশোনা করান থেকে শুরু করে কেন্দ্রের সমস্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। টানা ১৩-১৪ বছর ধরে এই অবস্থায় চলছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতাড় ব্লকের মোহনপুর (খাপাড়া-রাই বাগদী পাড়া) এলাকার একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। আর এই পরিস্থিতিকে ঘিরেই ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার অভিভাবকরা।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রে কোনও সহায়িকা (হেল্পার) নিয়োগ করা হয়নি। ফলে একমাত্র কর্মী সোনালী খাঁকেই শিশুদের জন্য রান্না করা, খাবার পরিবেশন, পড়াশোনা করান, কেন্দ্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা-সহ সমস্ত দায়িত্ব একাই সামলাতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই শিশুদের পড়াশোনা ও পরিষেবার মান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, শিশুদের নির্ধারিত সময়ে খাবার দেওয়া হয় না। খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, অধিকাংশ দিন শিশুদের ভাত, আধখানা ডিম ও সামান্য সবজি দেওয়া হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় গরমের দিনে শিশুদের সেখানে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন অনেক অভিভাবক। এছাড়াও দরজা, থালা-বাসন-সহ ন্যূনতম পরিকাঠামোরও অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সোনালী খাঁ জানান, ২০১৪ সাল থেকে তিনি ওই কেন্দ্রে কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরেই সহায়িকা নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান হলেও আজও কোনও সমাধান মেলেনি। বর্তমানে তাঁকেই একাই রান্না করা, শিশুদের খাবার পরিবেশন, পড়ান এবং কেন্দ্রের সমস্ত কাজ সামলাতে হয়। ফলে শিশুদের পড়াশোনায় পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। তিনি জানান, কেন্দ্রে মোট ৩২ জন শিশু নথিভুক্ত থাকলেও নিয়মিত উপস্থিত থাকে মাত্র ২৩ জন। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের সময় উপস্থিতির হার আরও কমে যায়।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal