Last Updated:
Delhi Newlywed Couple: লোধি কলোনিতে ২৮ বছরের তরুণীর মৃত্যু ঘিরে ধোঁয়াশা, তদন্তে পুলিশ, সরব পরিবার।
নয়াদিল্লি: দক্ষিণ দিল্লির লোধি কলোনিতে ২৮ বছর বয়সি নববিবাহিতা আকৃতি সুতারের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, পণের দাবিতে পরিকল্পিত খুন। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত এখনও চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় দিল্লির লোধি কলোনির পালিকা কুঞ্জে এনডিএমসি ফ্ল্যাটের তৃতীয় তলা থেকে পড়ে গুরুতর জখম অবস্থায় আকৃতিকে উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ওই আবাসনে তিনি কেন গিয়েছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বাসিন্দাদের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে দ্রুত এইমস ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ না থাকলেও আকৃতির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
দক্ষিণ দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক অনন্ত মিত্তল জানান, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৬ ধারায় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটকে ইনকোয়েস্টের জন্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্ত চলছে এবং ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে আকৃতির পরিবার আত্মহত্যার তত্ত্ব মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই আরাস্তু সিক্কা এবং তাঁর পরিবার ২০ লক্ষ টাকা পণের দাবি করছিল এবং সেই কারণে আকৃতির উপর নিয়মিত মানসিক নির্যাতন ও হুমকি চালানো হত। আকৃতির ২৪ বছর বয়সি ভাই অময় সুতারের দাবি, তাঁর দিদি মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন এবং কোনও পরিস্থিতিতেই আত্মহত্যা করার মানুষ নন। পরিবারের আরও দাবি, মৃত্যুর দু’দিন আগেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়েছিল এবং আরাস্তু একাধিকবার আকৃতিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন।
পরিবারের দাবি, যেখানে আকৃতির দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেই ভবনের অধিকাংশ ফ্ল্যাটই ফাঁকা। ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ না থাকায় তাঁদের সন্দেহ, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে। তাঁদের মতে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হবে। পরিবার আরও জানিয়েছে, বিয়ের জন্য ছুটি নেওয়ার পর আকৃতি ১ জুলাই ফের কাজে যোগ দিয়েছিলেন। শনিবার সহকর্মীদের জন্য একটি ছোট অনুষ্ঠানও করেছিলেন। তাই তাঁদের প্রশ্ন, যদি তিনি আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেই থাকেন, তবে কাজে ফিরে সেই উদ্যাপন কেন করেছিলেন?
Kolkata,West Bengal
