Last Updated:
Typhoon Bavi: সুপার টাইফুন ‘বাভি’-র তাণ্ডবের আশঙ্কা, রোটায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
মারিয়ানা: প্রবল ঝোড়ো হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টিতে রবিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গুয়াম এবং উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ। সুপার টাইফুন ‘বাভি’ সোমবার ভোরে সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদেরা। ঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য শক্তি অর্জন করায় সম্ভাব্য ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের (JTWC) পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুপার টাইফুন ‘বাভি’ পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (NWS) ‘বাভি’-কে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছে। সংস্থার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় ভয়াবহ ঝড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাস এবং বিপজ্জনক সমুদ্র পরিস্থিতিরও আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস, অন্যদিকে গুয়ামের জনসংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সকালে উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণতম দ্বীপ রোটার সবচেয়ে কাছ দিয়ে অতিক্রম করতে পারে ‘বাভি’। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা সতর্ক করেছে, যদি টাইফুনটি রোটার উপর দিয়ে বা খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করে, তাহলে দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা কয়েক সপ্তাহের জন্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে। বহু বাড়ি ধ্বংস হতে পারে, উপড়ে পড়তে পারে গাছ, ভেঙে যেতে পারে বিদ্যুতের খুঁটি এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত ব্যাহত থাকতে পারে।
রোটার মেয়র অউব্রি হোকোগ বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করলে পরিবার, প্রতিবেশী এবং গোটা সম্প্রদায়কে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে তিনি সকলের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করার আবেদনও জানান। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক শক্তিশালী ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছে মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সুপার টাইফুন ‘সিনলাকু’-র জেরে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তার আগে ২০২৩ সালে টাইফুন ‘মাওয়ার’ও এই অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
এদিকে বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের জল ক্রমশ উষ্ণ হওয়ায় ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়গুলির শক্তি বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস মেরিন সার্ভিস সম্প্রতি জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রের তাপমাত্রা এ বছর জুন মাসে রেকর্ড সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং তা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তনের পাশাপাশি আরও শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড়ের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
Kolkata,West Bengal
Jul 05, 2026 10:36 PM IST
