Last Updated:
Crime News: শনিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এক বন্ধুর ফোনেই লুকিয়ে ছিল চরম বিপদ। বহরমপুরে বাইকে করে যাওয়ার পথে পথ আটকে একাদশ শ্রেণীর ছাত্রকে এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ মেরে খুন করল দুষ্কৃতীরা। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে প্রেমঘটিত বিবাদ রয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। ঘটনার পর থেকেই পলাতক মূল অভিযুক্ত।
মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: বাড়ি থেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক স্কুল ছাত্রের সঙ্গে ঘটে গেল নৃশংস ঘটনা। যা দেখে শিউড়ে উঠলেন সকলেই। ছাত্রের বুকে ও গলায় ছুরির কোপ মেরে খুন করার অভিযোগ উঠল তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে। শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার কলাবাগান এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম ফরহাদ বাদশা (১৭)। সে বহরমপুর থানার কর্ণসুবর্ণ মাঝিরহাট গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় মধুপুর রাজা শশাঙ্ক বিদ্যাপীঠের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। এই ঘটনায় ইতিমিধ্যেই আরিফ হোসেন ও সাগর শেখ নামে দুই যুবককে আটক করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত সাহিল শেখ ঘটনার পর থেকেই পলাতক বলে জানা যাচ্ছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে ফরহাদ যখন স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময় গ্রামেরই বাসিন্দা তথা তার স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আরিফ হোসেন তাকে ফোন করে। আরিফ জানায় যে, গ্রামেরই আর এক যুবক সাগর শেখ তার মামার বাড়ি কলাবাগান পার্বতীপুরে আছে। তাকে আনতে যাওয়ার জন্য ফরহাদকে ডাকে আরিফ। এরপর দু’জনে একটি মটর বাইকে করে কলাবাগান এলাকায় যায়। সেখান থেকে ফেরার সময় মটর বাইকটি চালাচ্ছিল ফরহাদ, আর পিছনে বসেছিল আরিফ ও সাগর বলে জানা যায়।
খবর পেয়ে বহরমপুর থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মৃতের আত্মীয় পারভিনা খাতুন জানান, ফরহাদ অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল এবং কারও সঙ্গে তার কোনও শত্রুতা ছিল না। কেন তাকে এভাবে বন্ধুরা ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করল, তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছে না পরিবার। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার। ঠিক কী কারণে এই খুন, এর পিছনে কোনও পুরনো বিবাদ নাকি অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রেম ঘটিত কারণে এই পরিনতি হতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। পুলিশ দহ মময়না তদন্তের পর দেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবার সদস্যদের হাতে।
Murshidabad,Murshidabad,West Bengal
