Last Updated:
School Lunches Mobile App: গ্রামবাংলার শিশুদের কাছেও প্রযুক্তির আলো। বড় উদ্যোগ গাঙ্গুলিডাঙ্গা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ৭৩ বছরের পুরনো এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নিজেদের একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে পড়ুয়ারা ঘরে বসেই প্রতিদিনের পাঠ, সিলেবাস ও শিক্ষামূলক ভিডিও দেখতে পারবে।
কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: কলকাতায় যাতায়াতের পথে এক বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াকে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পড়াশোনা করতে দেখে মনে প্রশ্ন জেগেছিল, এই সুযোগ কি শুধু শহরের ছাত্রছাত্রীদের জন্য? গ্রামবাংলার শিশুরাও কি একইভাবে প্রযুক্তির সাহায্যে পড়াশোনা করতে পারে না? সেই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিল কাটোয়া পশ্চিম চক্রের গাঙ্গুলিডাঙ্গা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৭৩ বছরের পুরনো এই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবার চালু করল নিজেদের মোবাইল অ্যাপ, যার মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়ারা ঘরে বসেই প্রতিদিনের পাঠ, সিলেবাস ও শিক্ষামূলক ভিডিও দেখতে পারবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমিত চ্যাটার্জী বলেন, “বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের মান উন্নয়নের জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ।”অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কাটোয়া পশ্চিম চক্রের স্কুল পরিদর্শিকা ফ্যান্সি মুখার্জি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি শুধুমাত্র একটি অ্যাপ নয়, বরং গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার এক নতুন উদ্যোগ। বর্তমানে প্রায় ২৩০ জন ছাত্রছাত্রীর জন্য প্রতিদিনের পাঠ এই অ্যাপে আপলোড করা হবে। কোনও কারণে স্কুলে উপস্থিত হতে না পারলেও পড়াশোনায় যাতে ছেদ না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই ডিজিটাল ব্যবস্থা।
ভবিষ্যতে আরও নানা সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। কাটোয়া পশ্চিম চক্রের স্কুল পরিদর্শিকা ফ্যান্সি মুখার্জি বলেন, “এটা খুবই ভাল উদ্যোগ , আশা করা যায় পড়ুয়াদের অনেকটাই উপকারে আসবে এই ব্যবস্থাপনা।” বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগে খুশি অভিভাবকরাও। তাঁদের মতে, এখন সন্তান অসুস্থ থাকুক বা অন্য কোনও কারণে স্কুলে যেতে না পারুক, বাড়িতে বসেই সহজে পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত থাকা সম্ভব হবে। ফলে সন্তানদের পড়াশোনার অগ্রগতির ওপর অভিভাবকদের নজর রাখাও অনেক সহজ হবে।
এক অভিভাবক সাবিনা বিবি বলেন, “খুব ভাল হল আমাদের, বাচ্চাদের পড়াশোনায় সুবিধা হবে অনেক আমরাও নজর রাখতে পারবো।”একসময় যেখানে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল শিক্ষার কথা কল্পনাতেও ছিল না, সেখানে আজ নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ চালু করে নতুন নজির গড়ল গাঙ্গুলিডাঙ্গা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। একটি ছোট্ট অনুপ্রেরণা থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আগামী দিনে পূর্ব বর্ধমানের আরও বহু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে পথপ্রদর্শক হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal