Last Updated:
Ganges River Dolphin: ভাগীরথী নদীতে একের পর এক গাঙ্গেয় শুশুকের মৃত্যু উদ্বেগ বাড়াচ্ছিল। তবে সচেতনতা প্রচার এবং মৎস্যজীবীদের সহযোগিতায় সেই ছবিটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এখন কাটোয়ায় ভাগীরথীর বুকে প্রায়ই জাতীয় জলজ প্রাণী গাঙ্গেয় শুশুকের জলকেলি চোখে পড়ছে। পরিবর্তন ধরে রাখতে বিভিন্ন ঘাটে নতুন করে সচেতনতা অভিযান চালাচ্ছে বন দফতর।
কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: এক সময় ভাগীরথীর বুকে একের পর এক গাঙ্গেয় শুশুকের মৃত্যুর খবর উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলেছে। বনদফতরের ধারাবাহিক সচেতনতামূলক প্রচার, জেলেদের সহযোগিতা এবং কড়া নজরদারির ফলে কাটোয়ার ভাগীরথী নদীতে আবারও বাড়ছে জাতীয় জলজ প্রাণী গাঙ্গেয় শুশুকের উপস্থিতি। নদীর বুকে শুশুকের জলকেলি এখন প্রায়ই চোখে পড়ছে স্থানীয় মানুষ ও নৌযাত্রীদের। এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে আরও শক্তিশালী করতে কাটোয়ার বিভিন্ন ঘাটে সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে বনদফতর।
গাঙ্গেয় শুশুকের ছবি দেখিয়ে সাধারণ মানুষ ও মৎস্যজীবীদের বোঝান হচ্ছে, ভুলবশত যদি কোনও শুশুক জালে আটকে পড়ে, তাহলে যেন জাল টেনে তুলে তাকে বিপদের মুখে না ঠেলে দিয়ে দ্রুত বনদফতরকে খবর দেওয়া হয়। প্রয়োজনে বনকর্মীরা এসে নিরাপদে শুশুককে উদ্ধার করবেন। জাল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পূরণের চেষ্টাও করা হবে বলে জানিয়েছে বনদফতর। কাটোয়া বনাঞ্চলের কর্মী কৌশিক মুখার্জি জানান, এক সময় অজ্ঞতার কারণে অনেক শুশুকের মৃত্যু হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। দীর্ঘদিন ধরে শিকারের কোনও নির্দিষ্ট খবর নেই।
গত ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে শুশুকের মৃত্যুর ঘটনাও বনদফতরের নজরে আসেনি। তাঁর দাবি, মানুষের সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি শুশুকের প্রজনন পর্বেও বনদফতর বিশেষ নজরদারি চালিয়েছে, যার ফলে আগের তুলনায় নদীতে শুশুকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাঙ্গেয় শুশুক নদীর বাস্তুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নদীর পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং জলজ পরিবেশ সুস্থ রাখতে এই প্রাণীর ভূমিকা অপরিসীম।
সেই কারণেই ২০০৯ সালে কেন্দ্র সরকার গাঙ্গেয় ডলফিনকে ভারতের জাতীয় জলজ প্রাণীর মর্যাদা দেয়। উল্লেখ্য, কাটোয়ার ভাগীরথী নদীর কল্যাণপুর থেকে পাটুলি পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার এলাকা গাঙ্গেয় শুশুকের গুরুত্বপূর্ণ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই রাজ্য বনদফতর শাঁখাই ঘাটে গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। সেখানে সংরক্ষণের পাশাপাশি গবেষণাও চলছে। বনদফতরের আশা, প্রশাসন, জেলে সম্প্রদায় এবং সাধারণ মানুষের যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কাটোয়ার ভাগীরথী আরও সমৃদ্ধ হবে গাঙ্গেয় শুশুকের নিরাপদ বিচরণে।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal