প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এদিনের বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals), বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি প্রধান আলোচ্য হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তিন দেশ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে বুধবার রাতে মেলবোর্নে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে তাঁকে রেড কার্পেটে সংবর্ধনা দেওয়া হয়৷ স্বাগত জানানো হয় আনুষ্ঠানিক ভাবে গার্ড অব অনার-এর মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই সফর ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সমন্বিত কৌশলগত সম্পর্কে (Comprehensive Strategic Partnership) নতুন গতি আনবে।’’
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ করা এক পোস্টে মোদী লেখেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সঙ্গেও সাক্ষাতের সুযোগ পাব। এই প্রবাসী ভারতীয়রাই আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি’।
সফরে মোদি ও অ্যালবানিজ যৌথভাবে তৃতীয় ভারত-অস্ট্রেলিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের (India-Australia Annual Summit) সভাপতিত্ব করবেন। পাশাপাশি, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হবে।
এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) এবং উন্নত শিল্পে এই খনিজগুলির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও বৈচিত্র্যময় করা এবং সীমিত কয়েকটি উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই একসঙ্গে কাজ করছে।
ভারতে অস্ট্রেলিয়ার ‘ইউরেনিয়াম রফতানি’ নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির দিকেও নজর রয়েছে এদিনের বৈঠক ঘিরে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশ ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছতে পারে।
ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ২০১৪ সালে অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করলেও, ইউরেনিয়াম রফতানি সীমিত ছিল। কারণ, এই ইউরেনিয়াম শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ কাজে—বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে—ব্যবহার করা হবে কি না, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ ছিল।
সম্ভাব্য ইউরেনিয়াম চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অ্যালবানিজ বলেন, “এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আলোচনার পর আরও কিছু বলার থাকবে।” তিনি আরও জানান, এ নিয়ে দুই পক্ষ ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা করেছে।
বৈঠকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (Indo-Pacific) অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তিন দিনের ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ওই সফরে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ১৪টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে এই চুক্তিগুলি হয়েছে।