Last Updated:
Bengal Industry: ২০০৬ সালে বাম আমলে শিলান্যাস হওয়া কাটোয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প আর বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সেই জমিতেই এবার বিকল্প শিল্প গড়ার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের এই নতুন আশ্বাসের পর ঘরের মাঠে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখছেন কাটোয়া তথা পূর্ব বর্ধমানের হাজার হাজার মানুষ ও জমিদাতারা।
কাটোয়া, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: জেলাবাসীর জন্য বড় সুখবর! বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে! এবার পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় অধিগ্রহণ করা জমিতে শিল্প গড়ে তোলার ঘোষণা ঘিরে আশার আলো দেখছেন হাজার হাজার মানুষ। যদিও ঠিক কী ধরনের শিল্প হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শিল্প আসছে, এই খবরেই জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসাহের পরিবেশ। জমিদাতা থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষ, সকলেরই প্রত্যাশা এবার আর শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবেই শুরু হোক শিল্পায়নের নতুন অধ্যায়।
এক জমিদাতা আশিষ পাঁজা বলেন, “আমরা জমি দিয়েছিলাম তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে সেই জন্য। কিন্তু এত বছর পরেও কিছুই হয়নি। এখন আমাদের জমিও নেই, কাজও নেই।” কাটোয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতেই নতুন শিল্প গড়ে তোলা হবে বলে সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, “বিশেষভাবে কাটোয়ার ওই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল ৬০০ একরের কাছাকাছি জমি আছে সেই জমি নিয়ে আমাদের একটা চিন্তা-ভাবনা আছে, সেটা সময়ের সঙ্গে জানা যাবে। সেখানে একটা ভাল শিল্প আগামী দিনে আসতে চলেছে।”
এই ঘোষণার পর থেকেই নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন জমিদাতারা এবং এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের বিশ্বাস, শিল্প গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং বদলে যাবে গোটা এলাকার আর্থ-সামাজিক চিত্র। বহু বছরের অপেক্ষার পর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন জমিদাতারাও। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত NTPC-র কোনও আধিকারিকের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে কয়েকশো একর অধিগ্রহণ করা চাষযোগ্য জমি উঁচু পাঁচিল ও লোহার গেটের আড়ালে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২০০৬ সালে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেন কাটোয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের শিলান্যাস করেছিলেন। প্রথমে পিডিসিএল চাষিদের কাছ থেকে ৫৫৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও পরে সেই প্রকল্পের দায়িত্ব যায় NTPC-র হাতে। পরবর্তীতে রাজ্য সরকার আরও প্রায় ১০০ একর জমি সংস্থাকে দেয়। যদিও প্রথম থেকেই শ্রীখণ্ড, দেবকুণ্ডু ও কোশিগ্রামের বহু কৃষক জমি দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। পরে একর প্রতি ভাল ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারপিছু একটি কর্মসংস্থানের আশ্বাস পেয়ে তাঁরা জমি দিতে রাজি হন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় দুই দশক কেটে গেলেও ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিটের সেই তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প আর বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অধিগ্রহণ করা জমি ব্যবহার না হওয়ায় হতাশা বাড়ছিল স্থানীয়দের মধ্যে। কিন্তু এবার শিল্প প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।
এলাকাবাসীর একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে শিল্প গড়ার উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। তাঁদের আশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দরজা খুলবে, ছোট ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি বাড়বে। এই প্রসঙ্গে জমিদাতা এবং এলাকাবাসী বাপীচন্দ্র ঘোষ, বন্দনা দাসেরা বলেন, “শিল্প হলে আমাদের খুবই ভাল হয়। আমাদের এই এলাকার বহু মানুষ কাজ পাবে এই আশা রাখি। জমি নেই অনেকজনকেই বাইরে কাজে যেতে হয়েছে। শিল্প হলে আশা করি এলাকার পুরো ছবি বদলে যাবে। শিল্প হবে সেই আশাতেই আমরা জমি দিয়েছিলাম। মন্ত্রী যা ঘোষণা করেছেন সেটা বাস্তবায়িত হলে আরও বেশি খুশি হব আমরা।” তবে স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি, শুধু ঘোষণাতেই যেন বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত প্রকল্পের রূপরেখা প্রকাশ করে শিল্প স্থাপনের কাজ শুরু করা হোক। বহু বছরের অপেক্ষার পর অধিগ্রহণ করা সেই জমিতে সত্যিই যদি শিল্প গড়ে ওঠে, তাহলে কাটোয়া-সহ পূর্ব বর্ধমান জেলার শিল্পায়নের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে, এমনটাই আশা এলাকার মানুষের।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
Jul 09, 2026 12:08 PM IST