Last Updated:
National Mourning: কাতারের প্রাক্তন আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে ১৩ জুলাই একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। এদিন দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং কোনও সরকারি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান হবে না।
নয়াদিল্লি: কাতারের প্রাক্তন আমির তথা ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে ১৩ জুলাই (রবিবার) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, এদিন দেশজুড়ে যেসব সরকারি ভবনে নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, সেখানে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয় শোক পালনের দিন কোনও সরকারি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শেখ হামাদের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শেখ হামাদ ছিলেন দূরদর্শী নেতা, যাঁর নেতৃত্বে কাতার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। ভারতেরও তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত বন্ধু।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভারতের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাতে শীঘ্রই কাতার সফরে যেতে পারেন সংসদীয় বিষয়ক ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা নিজের ছেলে শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির হাতে তুলে দেন। আধুনিক কাতার গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে তাঁকে মনে করা হয়।
রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে কাতার প্রশাসন। এরপর দেশজুড়ে কয়েকদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এই সময় সরকারি দফতর ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে এবং দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
১৯৯৫ সালের জুন মাসে বিদেশ সফরে থাকা নিজের বাবাকে ক্ষমতাচ্যুত করে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন শেখ হামাদ।
ক্ষমতা গ্রহণের সময় কাতার ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সীমিত প্রভাবসম্পন্ন একটি উপসাগরীয় দেশ। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডারকে কাজে লাগিয়ে কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG)-এর অন্যতম বৃহৎ উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়।
বৃহত্তর বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কাতার বিশ্বের মাথাপিছু জিডিপির নিরিখে অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হয়। শেখ হামাদের সময়কালে দেশটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লক্ষ, যার বেশিরভাগই ছিলেন প্রবাসী নাগরিক।
Kolkata,West Bengal
