Last Updated:
নিজের দ্বিতীয় ঘর কলকাতা থেকেও প্রবল বিক্ষোভের মুখে চলে যেতে হয়েছিল৷ প্রায় দু দশক পর আবার কলকাতায় ফিরতে চলেছেন বাংলাদেশী সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন৷
২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে পরিস্থিতির চাপে পড়ে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল৷ প্রায় ১৯ বছর পর সেই প্রাণের শহরে ফিরছেন৷ News18 বাংলাকে দেওয়া প্রথম প্রতিক্রিয়ায় সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন জানালেন, এই অনুভূতি তাঁর কাছে দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে ঘরে ফেরার আনন্দের মতোই৷
আগামী ৩১ জুলাই কলকাতায় পা রাখবেন তসলিমা নাসরিন৷ ১ অগাস্ট রবীন্দ্র সদনে একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে সংবর্ধিত করা হবে৷ প্রায় দু দশক পর কলকাতায় ফেরা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বাংলাদেশী লেখিকা বলেন, ‘১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর কলকাতায় ফিরছি৷ এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন৷ কলকাতা আমার কাছে শুধু একটি শহর নয়, আমার হারিয়ে যাওয়া ঘর৷ আমাকে কলকাতা থেকে দূরে রাখা হয়েছিল, কিন্তু আমার ভিতর থেকে কলকাতাকে কোনওদিন সরানো যায়নি৷ এত বছর পর আবার সেই শহরের মাটিতে পা রাখব৷ ভাবলেই আনন্দ, উত্তেজনা, আবেগ আর পুরনো বেদনা একই সঙ্গে জেগে উঠছে৷ মনে হচ্ছে দীর্ঘ নির্বাসনের পর নিজের ঘরে ফিরছি৷’
কলকাতা থেকে দূরে থাকলেও এই শহর তাঁর হৃদয় থেকে দূরে সরে যায়নি বলেই দাবি করেছেন তসলিমা৷ শুধু ফিরে আসার ডাক পাওয়ারই অপেক্ষায় ছিলেন তিনি৷ যদিও গত ১৯ বছরে সেই সুযোগ হয়নি৷ তসলিমা বলেন, ‘আমি বলব সরকার বদলেছে, সময় বদলেছে, কিন্তু কলকাতায় ফেরার আকাঙ্খা আমার কখনও বদলায়নি৷’
নিজের আত্মজীবনীর তৃতীয় খণ্ড ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশিত হওয়ার পরই ২০০৭ সালে ফের তসলিমার বিরুদ্ধে সরব হয় বাংলাদেশী মৌলবাদীরা৷ তার আঁচ এসে পড়ে কলকাতাতেও৷ তসলিমা বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা৷ পরিস্থিতি এমন পর্যায় পৌঁছয় যে বিক্ষোভ সামাল দিতে সেনাও নামাতে হয়েছিল৷ সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য৷ সাহিত্য, সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সুখ্যাতি থাকা সত্ত্বেও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারের আমলেই পরিস্থিতির চাপে পড়ে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন বাংলাদেশী লেখিকা৷ যে শহরকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি৷
Kolkata,West Bengal
