Last Updated:
গত এপ্রিল মাসের শুনানিতে এই ঘটনায় উদাসীন এবং গাছাড়া মনোভাবের জন্য গাজিয়াবাদের সরকারি কর্তৃপক্ষকেও তুলোধনা করেছিল শীর্ষ আদালত৷ পুলিশ কমিশনারকেও মামলার নথি নিয়ে তলব করা হয়েছিল৷
সময়মতো চিকিৎসা শুরু না হওয়ার অভিযোগ৷ যার জেরে মৃত্যু হয়েছিল ধর্ষণের শিকার চার বছরের শিশুকন্যার৷ এই ঘটনাতেই উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের দুটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং সেখানকার চিকিৎসকদের তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট৷
এনডিটিভি-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুই বেসরকারি হাসপাতালের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘শিশুটি গরিব বলেই আপনারা তাকে অবহেলা করেছেন৷’ একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত বলে, ‘নিজেদের নামের আগে ডাক্তার শব্দটি ব্যবহার করবেন না৷’
গত ১৬ মার্চ গাজিয়াবাদে ৪ বছর বয়সি এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে৷ বাড়ি না ফেরায় শিশুকন্যাটির খোঁজ শুরু করে তার পরিবার৷ বেশ কয়েকঘণ্টা পর শিশুটির সংজ্ঞাহীন দেহ উদ্ধার হয়৷ তার গোটা শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল৷ অভিযোগ ওই শিশুকন্যারই এক প্রতিবেশী চকোলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাকে নিয়ে গিয়ে নৃশংস নির্যাতন চালায়৷
আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে নিয়ে পর পর গাজিয়াবাদের দুটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায় শিশুকন্যার পরিবার৷ অভিযোগ, দুটি হাসপাতালের কোনওটিতেই শিশুটিকে ভর্তি নেওয়া হয়নি৷ নির্যাতিতা ওই শিশুকন্যার বাবার অভিযোগ, উদ্ধার হওয়ার পরেও শিশুকন্যাটি দু ঘণ্টা বেঁচে ছিল৷ সময়মতো চিকিৎসা হলে মেয়েকে বাঁচানো যেত বলেই দাবি শিশুটির পরিবারের৷
এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়৷ তদন্তে দুটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে বলেই রিপোর্ট দেয় সিট৷ এ দিন ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেদের দায়িত্বটুকু পালন করতে না পারলে নিজেদের নামের আগে ডাক্তার লেখারও কোনও অধিকার নেই আপনাদের৷ নিজেদের মধ্যে একফোঁটাও সংবেদনশীলতা থাকলে নিজেদের কাছে চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকলে শিশুটিকে আপনারা অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় সঙ্গে থাকতে পারতেন৷ কিন্তু শিশুটি গরিব বলেই আপনারা তাকে উপেক্ষা করেন৷ কারণ আপনাদের ফি দেওয়ার মতো ক্ষমতা শিশুটির পরিবারের ছিল না৷’
জরিমানা হিসেবে দুটি হাসপাতালকেই শিশুটির পরিবারকে অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷ এই নির্দেশ না মানলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সু্প্রিম কোর্ট৷
এই মামলার শেষ দিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়েই সবকিছু থেকে পার পাওয়া যায় না৷ দায়বদ্ধতা বলেও একটি বিষয় থাকে৷’
এই মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল৷ অভিযোগ, গত ১৬ মার্চ শিশুটির পরিবার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় থানায় ঘটনার কথা জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করে৷ কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ৷ উল্টে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলায় উল্টে নির্যাতিতা শিশুকন্যার পরিবারকেই মারধর করা হয় বলে অভিযোগ৷ কিন্তু বিষয়টি নিয়ে হইচই হওয়ার পর ১৭ মার্চ এফআইআর দায়ের করা হয়৷ ১৮ মার্চ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷
Kolkata,West Bengal
