Last Updated:
Mid Day Meal: রথযাত্রার রেশ কাটতে না কাটতেই এক অনন্য উদ্যোগের সাক্ষী হল মায়াপুরের একটি প্রাচীন বিদ্যালয়। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যৌথ আর্থিক সহযোগিতায় মিড ডে মিলে ছাত্রছাত্রীদের পাতে তুলে দেওয়া হলো ছাপ্পান্ন ভোগের মহাপ্রসাদ। ভোর থেকে নয়জন রাঁধুনির অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি এই রাজকীয় ভোজের মূল উদ্দেশ্য ছিল পড়ুয়াদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং তাদের মধ্যে এক ভক্তিপূর্ণ মেলবন্ধন তৈরি করা।
মায়াপুর, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: রথযাত্রার পুণ্য তিথির রেশ কাটতে না কাটতেই এক অনন্য নজিরের সাক্ষী হল নদিয়া জেলার মায়াপুর। সেখানকার অন্যতম প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘মায়াপুর ঠাকুর ভক্তি বিনোদ ইনস্টিটিউট’ বিদ্যালয়ে রথের পরের দিন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিশেষ উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীদের জন্য মিড ডে মিলে পরিবেশন করা হল প্রথাগত মহাপ্রসাদ ৫৬ ভোগ’। সম্পূর্ণ নিরামিষ এই বিশাল ভোজের আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর এবং ভক্তিপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এই ভোগে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফল জগন্নাথের প্রিয় কাঁঠাল, খাজা, মালপোয়া, পাটিসাপটা, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, পুষ্পান্ন পরমান্ন থেকে শুরু করে একাধিক রকমের ভাজা শাক ও তড়িতরকারি! বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রথযাত্রার পরের দিন জগন্নাথ দেবের উদ্দেশে নিয়মমাফিক পুজো অর্চনা ও নিবেদনের পর এই মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিত্যগোপাল মণ্ডল জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের যৌথ আর্থিক সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই বৃহৎ কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষকরা প্রত্যেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আয়োজনে নিজেদের কন্ট্রিবিউশন বা অবদান রেখেছেন।
বিদ্যালয়ের এই আয়োজন প্রসঙ্গে নদিয়ার নর্থ সার্কেলের স্কুল পরিদর্শক তথা বিদ্যালয়ের প্রশাসক জানবাস শেখ বলেন, “এই ধরনের বিশেষ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হল সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত বা ইনভলভ করা। এত পদের লোভনীয় খাবারের আয়োজন দেখে পড়ুয়ারা উৎসাহিত হয়, যা তাদের বিদ্যালয়মুখী করতে সাহায্য করে।” মিড ডে মিলের নিয়মিত নয় জন রাঁধুনিই ভোর ৫:০০ টা থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই ৫৬ টি পদের রান্না সম্পন্ন করেন। রাঁধুনিদের পক্ষে অসীমা বিশ্বাস অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানান যে, প্রতি বছরই তারা এই বিশেষ রান্নার দায়িত্ব পালন করেন এবং ছাত্রছাত্রীদের মুখে এই মহাপ্রসাদ তুলে দিতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। সব মিলিয়ে, মায়াপুরের এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমন অভিনব উদ্যোগ ছাত্র ও শিক্ষক সম্পর্কের মেলবন্ধনে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
Nadia,West Bengal