বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্র কাতারে অবস্থিত তাদের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদ এয়ার বেস থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে। এবার তারা তাদের অত্যন্ত মূল্যবান KC-135 স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার বিমানগুলো কাতার থেকে সরিয়ে দক্ষিণ ইজরায়েলের ওভদা এয়ারবেসে (Ovda Airbase) পাঠাচ্ছে।
এমন সময় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যখন ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক কৌশলেরই একটি অংশ।
এর আগে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা হামলা সম্পন্ন করেছে।
চলতি বছরে দ্বিতীয়বার এয়ারবেস থেকে সরানো হল বিমান:
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে আল উদেইদ এয়ার বেস থেকে একের পর এক KC-135 বিমান উড়ে গিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যেই ৬০টিরও বেশি মার্কিন আকাশে জ্বালানি ভরার (এয়ারিয়াল রিফুয়েলিং) বিমান ইজরায়েলে পৌঁছেছে। এর মধ্যে অন্তত ৩৩টি বিমান বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে দেখা গেছে। এছাড়া ১৮ ও ১৯ জুলাইয়ের মধ্যেও আরও কয়েকটি বিমান সেখানে পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।
চলতি বছরে এটি দ্বিতীয়বার, যখন যুক্তরাষ্ট্রকে আল উদেইদ এয়ার বেস থেকে নিজেদের বিমান সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ওয়াশিংটন এখন তাদের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে আগের তুলনায় আরও বেশি সতর্ক।
KC-135 স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার মার্কিন বিমানবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিমান। এর প্রধান কাজ হল আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানে জ্বালানি সরবরাহ করা। এর ফলে যুদ্ধবিমান দীর্ঘ দূরত্ব পর্যন্ত উড়তে পারে এবং টানা বহু ঘণ্টা মিশনে থাকতে সক্ষম হয়। এই বিমানগুলি না থাকলে বড় আকারের কোনও বিমান অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে পড়ে।
শুধু প্রতিরক্ষা নয়, হামলার প্রস্তুতিও:
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিমানগুলোকে ইজরায়েলে পাঠানোর পিছনে দুটি বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, সম্ভাব্য ইরানি মিসাইল ও ড্রোন হামলা থেকে এগুলোকে নিরাপদ রাখা। দ্বিতীয়ত, যদি অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তাহলে যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি রেখে দ্রুত সামরিক অভিযানে এগুলোকে ব্যবহার করা।
আল উদেইদ এয়ার বেস এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেসকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর সামরিক অভিযানের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। এখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্র গোটা পশ্চিম এশিয়াজুড়ে তাদের বিমান অভিযান পরিচালনা করে।
ফলে এই ঘাঁটি থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়াকে অনেকেই এমন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন যে, ইরানের সম্ভাব্য হুমকিকে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগেও ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড আল উদেইদ এয়ার বেসকে টার্গেট করার দাবি করেছিল। এছাড়া ২০২৫ সালেও এই ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।