Last Updated:
এনডিআরএফ ছাড়াও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ এবং দমকল উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে৷
ধস নেমে ভয়াবহ বিপর্যয় সিকিমে৷ ধস নামার ফলে দক্ষিণ সিকিম জেলায় একটি নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ চাপা পড়ে মৃত্যু হল ১ জন শ্রমিকের৷ আরও ২৭ জন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷
সোমবার বিকেলে এই বিপর্যয় ঘটেছে দক্ষিণ সিকিমের সামারদুং সুড়ঙ্গে৷ ওই এলাকায় বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে ধস নামার ফলে নির্মীয়মাণ ওই সুড়ঙ্গের প্রবেশ পথ মাটি এবং পাথর স্তূপের নীচে আটকে যায়৷ শুধু তাই নয়, ব্যাপক এই ধসের ফলে সুড়ঙ্গের ভিতরে মিথেন গ্যাস লিক করতে শুরু করে৷ ফলে আরও ব্যাহত হয় উদ্ধারকাজ৷
সোমবার মধ্যরাতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধসে চাপা পড়া সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে ১ জন শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে৷ তবে সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও ২৭ জন শ্রমিকের আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে৷
তবে শ্রমিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন উদ্ধারকারী নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর৷ কারণ সুড়ঙ্গের ভিতরে মিথেন গ্যাস লিক করতে শুরু করেছে৷ ফলে কয়েকজন উদ্ধারকারী সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবেশ করার পর তাঁদের মাথা ঘোরাতে শুরু করে৷ কয়েকজন সংজ্ঞাহীনও হয়ে পড়েন বলে খবর৷ ফলে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনো আরও কঠিন হয়ে গিয়েছে৷
জানা গিয়েছে ধসের জেরে পাথরের আস্তরণের নীচে প্রাকৃতিক ভাবে থাকা মিথেন গ্যাসই লিক করতে শুরু করেছে৷ জেলাশাসক অনুপা তামলিং জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট ভাবে কতজন শ্রমিক ভিতরে আটকে রয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ সংখ্যাটা ২৭ জনের বেশিও হতে পারে, কমও হতে পারে৷ তিনি জানিয়েছেন, একদিকে মিথেন গ্যাস লিক করছে, তার উপরে সুড়ঙ্গের যেটুকু প্রবেশপথ অবশিষ্ট রয়েছে তা অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং ভিতরের দৃশ্যমানতাও একেবারেই কম৷ ফলে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে উদ্ধারকারীদের৷
তবে আটক শ্রমিকদের উদ্ধার করাই এখন অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক৷ কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল, পরে তা খতিয়ে দেখা হবে৷ জানা গিয়েছে, তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ষষ্ঠ পর্যায়ের অংশ হিসেবে এই সুড়ঙ্গটি নির্মাণ করা হচ্ছিল৷
Kolkata,West Bengal
